• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

হাট থেকে গরু চুরি, আর কোনো দিন ঢাকায় আসবেন না ব্যাপারি সেলিম

sagar crime reporter / ৩৮ জন দেখেছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

জাতীয়

হাট থেকে গরু চুরি, আর কোনো দিন ঢাকায় আসবেন না ব্যাপারি সেলিম

 

shaplanews.com

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬

বিক্রি না হওয়া গরু ট্রাকে তুলছেন নাটোরের ব্যাপারি মোহাম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়ী এলাকার শনিরআখড়া পশুর হাটে/ছবি: জাগো নিউজ

ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে লাভের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ১০টি গরু নিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার শনিরআখড়া পশুর হাটে আসেন নাটোরের ব্যাপারি মোহাম্মদ সেলিম। তবে এই কয়েক দিনে বিক্রি করতে পেরেছেন চারটি।

গরুর কম দাম কিংবা লোকসানে বিক্রি নিয়ে এখন আর সেলিমের কোনো আক্ষেপ নেই। কারণ, এর চেয়েও বড় ক্ষতি হয়ে গেছে তার। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) গভীর রাতে হাট থেকে তার দুই লাখ ৮০ টাকা দামের একটি গরু চুরি গেছে। এই দুঃখ মনে নিয়েই রাজধানীকে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি।

ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে এই ব্যাপারির দেখা মিলে শনিরআখড়া হাটে। তখন আশপাশ খালি হয়ে আসছিল। রাস্তার পাশে কর্তৃপক্ষের প্রস্তুত করা নির্দিষ্ট স্থানে ট্রাক রেখে তাতে অবিক্রিত পাঁচটি গরু তুলছিলেন তিনি।

সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনার রাতে ঝিমুনি আসায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সঙ্গের দুজন কী কারণে জানি বমি করেছিল। তারাও অসুস্থ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ওই সুযোগে কখন যে গরুটি নিয়ে গেলো টেরই পাইনি। অনেক চেষ্টা করেও কোনো হদিস মিললো না। হাট কর্তৃপক্ষকে বললাম গরুটির সন্ধান করতে। কিন্তু তারা শুধু মাইকে ঘোষণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। এমনিতে গরুর দাম কম। আসা-যাওয়ার খরচ ও বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রিতে লস গেছে। আবার গরু হারিয়ে এখন শুধুই লস আর লস।’

রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে গরুটি চুরি হয়ে থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা (হাট কর্তৃপক্ষ) বারবার মাইকে বলছে, হাসিল ছাড়া কোনো গরু বিক্রি যেন না হয়। আমরা তো গরুটি বিক্রি করিনি। তাহলে হাসিল ছাড়া গরুটি বাইরে কীভাবে নিয়ে গেলো? গরুর খোঁজ নিতে তারা কোনো চেষ্টাই করলো না। পুলিশকে জানানোর জন্য বলেছিল। আমরা আর ভেজালে যাইনি।’

চার লাখ টাকা দিয়ে কেনা এই গরুর দাম ক্রেতারা বলেছেন দুই লাখ ৮০-৯০ হাজার টাকা/

ক্ষোভ প্রকাশ করে সেলিম বলেন, ‘এটাই ছিল জীবনের প্রথম ঢাকায় গরু বিক্রি করতে আসা, এটাই জীবনের শেষ। লস, কষ্ট ও গরু নিয়ে ফিরে যাবো। আর কোনো দিন গরু নিয়ে ঢাকায় আসবো না, এখানকার মানুষ ভালো না।’

চারটি গরু ট্রাকে তোলার পর আরও একটি সাদা-কালো রঙের ষাঁড় গাড়িতে তোলার সময় দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘চার লাখ টাকা দিয়ে কিনা, দাম বলছে দুই লাখ ৮০-৯০ হাজার টাকা। এভাবে গরু বিক্রি হয়? গাড়িভাড়া গরুপ্রতি ১৬০০ টাকা দিয়েছিলাম, এখন আবার ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’

এদিকে, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে মো. জাকির হোসেন ১৪টি গরু নিয়ে আসেন। বিক্রি করতে পেরেছেন পাঁচটি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘টার্গেট অনুযায়ী গরু বিক্রি হয়নি। গ্রামের তুলনায় এখানে (ঢাকায়) দাম কম। যেসব গরু বিক্রি করেছি সবই এক লাখ ১৪ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। অথচ গ্রামে আমাদের সাথের অন্য ব্যাপারিরা এর চেয়ে বেশি দামে ঈদের দু-একদিন আগেই গরু বিক্রি করে ফেলেছে। তারা সবাই বাড়িতে আছে আর আমরা গরুর হাটে। ঈদ নাই, খাওয়া-দাওয়া নাই, হাটে কোনো ব্যবস্থাপনা নাই। দেখারও কেউ নাই।’

‘অবিক্রিত গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল আরও আগেই। কিন্তু হাট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও অনুমতি না পেয়ে যেতে পারিনি। লস তো আগেই হয়েছিল, এখন থাকা-খাওয়ায় আরও বেশি খরচ হলো,’ যোগ করেন তিনি।

সব মিলিয়ে এবার রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তের চিত্র বিক্রেতাদের জন্য ছিল চরম হতাশার। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী ও খামারি লোকসান দিয়েই পশু বিক্রি করেছেন। আবার কেউ কেউ অবিক্রিত পশু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ