• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

নেতানিয়াহুর এক ফোন কলেই ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

sagar crime reporter / ১৮ জন দেখেছে
আপডেট : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

নেতানিয়াহুর এক ফোন কলেই ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

 

শাপলানিউজ.কম
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬,

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পেছনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ফোন কলকে দায়ী করেছে তেহরান। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের মাঝপথে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে করা নেতানিয়াহুর ওই একটি ফোন কলই সম্ভাব্য সমঝোতার পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

আরাঘচির মতে, ওই কলটির পর আলোচনার মোড় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপক্ষীয় বিষয় থেকে ঘুরে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলের স্বার্থের দিকে চলে যায়। আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে বসে এমন কিছু অর্জন করতে চেয়েছিল যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইরান অত্যন্ত সদিচ্ছা নিয়ে অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন আরাঘচি। তবে আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগেই জেডি ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলন করাকে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও প্রস্তুত। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর সাথে ভাইস প্রেসিডেন্টের ওই গোপন ফোন কলের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফলে চলতি মাসের শুরুতে কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার মেয়াদ মাত্র ৯ দিন অবশিষ্ট রয়েছে।

ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল অগ্রহণযোগ্য। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওয়াশিংটন কেবল হরমোজ প্রণালিতে তাদের ও মিত্রদের অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তাই চায়নি, বরং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ এবং মজুদকৃত ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবিও তুলেছে।

জেডি ভ্যান্স এই শর্তগুলোকে ওয়াশিংটনের ‘শেষ এবং সেরা প্রস্তাব’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, যা ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও হোয়াইট হাউস তাদের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো নতুন চুক্তি না হলে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কূটনৈতিক এই ব্যর্থতা ওয়াশিংটনের মিত্রদের মধ্যেও বিভাজন স্পষ্ট করে তুলেছে। স্পেন ও ইতালির মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। এমনকি ন্যাটো জোটের অনেক সদস্য এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধে জড়ানোর চাপকে উপেক্ষা করছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই একাকী হয়ে পড়ছে।

বর্তমানে হরমোজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। এমতাবস্থায় নেতানিয়াহুর হস্তক্ষেপের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ