shaplanews.com
Published : 16 Aug 2026,
নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে ঢাকাকে এমন একটি শহরে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বর্তমান প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, যে শহর নিয়ে সবাই ‘গর্ব’ করবে।
রোববার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-শৃঙ্খলা, বাজার পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
পুরান ঢাকার অতীত, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষাকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাকে কেন্দ্র করে ৪১৬ বছরের একটি ‘হেরিটেজ প্রোগ্রাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “ঢাকা শহর পৃথিবীর বহু শহরের চেয়ে পুরাতন। কিন্তু ঢাকাকে বিদেশের সামনে সেভাবে তুলে ধরা হয় না।”
নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমি যতক্ষণ আছি, আপনাদের সহযোগিতায় যদি মেয়র হতে পারি, ইনশাআল্লাহ ঢাকাটাকে আমরা সেই জায়গায় নিয়ে যাব, যাতে জনগণ এটাকে প্রাউড ফিল করবে। ঢাকাকে নিয়ে প্রাউড ফিল করবে।”
নগরবাসীকে ঢাকার প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকায় সবাই আসে, কিন্তু ঢাকাটাকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসে না। সে বাড়ি মনে করে তার গ্রামে। ঢাকাকে তার অন্তরের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসতে হবে। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
ট্রেড লাইসেন্স সহজ করার ঘোষণা
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা সহজ করার ঘোষণা দেন প্রশাসক।
তিনি বলেন, “আপনারা বলেছেন পাঁচ বছর। হ্যাঁ, এটা আমরা করতে পারি। কয়েকদিনের মধ্যেই হয়ত জানাব যে, আপনারা চাইলে পাঁচ বছরের জন্য রিনিউ করে নিতে পারবেন। আজকে আমি এই ঘোষণা দিয়ে গেলাম।”
ট্রেড লাইসেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রতার অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, “আমি নির্দেশনা দিয়েছি, সম্ভব হলে দিনের কাজ দিনে শেষ করে লাইসেন্স দিতে হবে। কোনো অফিসার বা সেকশন যদি এতে ব্যত্যয় ঘটায়, দয়া করে আমাকে রিপোর্ট করবেন। সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।”
ট্রেড লাইসেন্স জালিয়াতির একটি চক্র সক্রিয় হওয়ায় ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল বলে দাবি করেন প্রশাসক।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ঘরে বসে ট্রেড লাইসেন্স ও হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
পুরান ঢাকা থেকে ব্যবসায়ীরা যাতে মুখ ফিরিয়ে না নেন, সেদিকে ‘নজর’ দেবেন জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, “ব্যবসায়ীদের জন্মই তো পুরান ঢাকায়। সেখানে সুযোগ-সুবিধা না দিলে সবাই চলে যাবে।”
ডিএসসিসির মার্কেটগুলোতে বছরের পর বছর বকেয়া পড়া ভাড়া ও রাজস্ব আদায়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সহযোগিতা চান প্রশাসক।
কোনো জবরদস্তি না করে আলোচনার মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের উপায় বের করার আহ্বান জানান তিনি।
সাইনবোর্ডের কর নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রকৃত আয়তন বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেন আব্দুস সালাম।
হকার নিবন্ধন, একমুখী সড়ক ও চাঁদাবাজি রোধ
যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কাজ চলছে জানিয়ে পুরান ঢাকার চকবাজার ও মৌলভীবাজারের মত এলাকার সড়কগুলোকে যানজটমুক্ত করতে ‘ওয়ানওয়ে’ বা একমুখী করার প্রস্তাব দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
ব্যাটারিচালিত রিকশা ও হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা তো উচ্ছেদ চাই না। কিন্তু একটা শৃঙ্খলায় আসতে হবে। আজকে ঢাকা শহরে আসলেন, কালকে রিকশা নিয়ে নেমে যাবেন বা ভ্যান নিয়ে হকারগিরি করবেন, এটা হবে না।”
তিনি বলেন, কতজন হকার থাকবে এবং কতগুলো রিকশা চলবে, তা নির্ধারণ করে তাদের লাইসেন্স ও নম্বরের আওতায় আনা হবে। এ জন্য তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডারও তৈরি করা হবে।
চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে আব্দুস সালাম বলেন, “যে দলেরই হোক, কোনো দল চাঁদাবাজি করতে পারবে না। এজন্যই আমরা লাইসেন্স ও নম্বরের ব্যবস্থা করছি।”