shaplanews.com
আমাদের সাদাকায়নে প্রথম যে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দেবো সেটা হচ্ছে এই যে গরম! কী করবেন? গরমের সময় পানি বেশি করে খাবেন। কারণ আমাদের দেশে হিউমিডিটি বেশি, ঘাম বেশি হয়।
অতএব এইজন্যে পানি বেশি করে খাবেন। আবার সৌদি আরবে ঘাম হয় না। যে কারণে যে গরম লাগছে এটা বডি ঐভাবে টের পায় না, ডিহাইড্রেশন হয়ে যায় টের পাওয়ার আগেই। এইজন্যে যারা হজ করতে যান তাদেরকে আমি বলেই দিই যে, সবসময় পানির বোতল সাথে রাখবেন। এবং সবসময় পিপাসা লাগুক না লাগুক পানি খাবেন।
আর পানির মধ্যে সবচেয়ে বেস্ট পানি হচ্ছে- লেবু পানি। লেবু খাবেন, লেবুর খোসা খাবেন। এই গরমের জন্যে লেবু এবং লেবুর পানি যেটাকে লেম্বু পানি বলে। অর্থাৎ লেবুর শরবত। লেবু পানিই হচ্ছে লেবুর শরবত। এটা শরবত কিন্তু চিনি দেয়া হয় নি, গুড় দেয়া হয় নি, বাট এটা শরবত। এটা কমলার চেয়ে উপকারী।
এবং গ্রীষ্মকালীন যে রোগগুলো হয় জ্বর, তারপরে পেটের প্রবলেম- এটার জন্যে কী করবেন? লেবুর খোসা চিবিয়ে খাবেন। আর চিবিয়ে খেতে ভালো না লাগলে লেবুর খোসা ভর্তা করে খাবেন। নতুন রেসিপি আমি আজকে আপনাদেরকে উপহার দিলাম।
আপনাদের দেখে মনে হলো যে, ঈদ উপলক্ষে একটা নতুন রেসিপি দেয়া এবং লেবুর খোসার ভর্তা তৈরি করা খুব সহজ। খোসাটাকে ছেঁচবেন তার মধ্যে একটু হালকা অল্প একটু লবণ লাগিয়ে দেবেন। ব্যস লেবুর খোসার ভর্তা হয়ে গেল।
বলবেন যে, লেবুর খোসার ভর্তাতে কী হবে? আমাদের পেটে দুই ধরনের কোটি কোটি অণুজীব রয়েছে। আমাদের সারা শরীরে এই ধরনের অণুজীবের সংখ্যা হচ্ছে একশ ট্রিলিয়ন বা আরও বেশি হতে পারে। এত অণুজীব রয়েছে। একটা হচ্ছে উপকারী আরেকটা হচ্ছে ক্ষতিকর।
যখন আপনি লেবুর খোসা খাবেন এই যে আপনার পেটের ভেতরে ভালো অণুজীবের পুষ্টি হচ্ছে ভিটামিন হচ্ছে এই লেবুর খোসা। ভিটামিন এই অণুজীবগুলোর পুষ্টি যোগায়, পুষ্টি বাড়ায়, হৃষ্টপুষ্ট করে লেবুর খোসার মধ্যে যে উপাদান রয়েছে সেই উপাদানগুলো।
যদি ভালো অণুজীবগুলো পেটে শক্তিশালী থাকে তাহলে আপনার পেট ফিট থাকবে এবং পেট ফিট থাকলে দেহ ফিট থাকবে। গরম আপনাকে কাবু করতে পারবে না এবং গরমের সময় যে রোগ হয় অসুখ হয় এই অসুখগুলো থেকে আপনি মুক্ত থাকবেন।
এছাড়া আরও যদি কিছু খেতে চান তেঁতুল গুড়ের শরবত খাবেন, পর্যাপ্ত পানি পান করবেন। এবং এই সময়টা ফ্রিজের পানি পান না করাটা বেটার। এবং বেলের যারা শরবত খেতে চান বেলের শরবত খেতে পারেন, তোকমার শরবত খেতে পারেন। এবং ভাজাপোড়া কম খাবেন আর বাইরে যখন বেরোবেন ছাতা নিয়ে বেরোবেন।
আর এই সময় যা খাবেন না সেটা হচ্ছে- স্যালাইন। এই যে বাজারে যে স্যালাইন পাওয়া যায় এগুলো খাওয়ার কোনো প্রয়োজন নাই, ডায়রিয়া হলে রাইস স্যালাইন খাবেন। এমনি স্যালাইন না
খাওয়াটা ভালো। আর ডাব খেতে পারেন ডাবের চেয়ে ভালো পানি আর নাই।
আসলে স্যালাইন বেশি খাওয়াটা শরীরের জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকর। শরীরের শরীরকে ইমব্যালেন্স করে। স্যালাইন লাগলে খাবেন, যদি ডায়রিয়া হয় তখন আলাদা কথা। এমনি গরম লাগছে ঘামছেন আজকে একটু স্যালাইন খাই, না। স্যালাইন খাবেন না পানি খাবেন এবং স্যালাইন যখন খাবেন ওটার প্যাকেটের গায়ে যে নির্দেশনা থাকে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করে খাবেন, নিজের মতোন করে খাবেন না।