রমজান মাস শুরুর আগেই মাছ, গোশত, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি উত্তাপ শুরু হয়। গতকালও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, লেবু, কাঁচা মরিচ, মাছ, মুরগি ও পেঁয়াজের মতো কয়েকটি পণ্যের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে দাম কমলেও অধিকাংশ পণ্য এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি, চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
পেঁয়াজ, লেবু, মুরগি ও কয়েকটি সবজিতে দাম কমার ইঙ্গিত মিললেও সামগ্রিকভাবে বাজার এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এবার রোজার আগে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছিল লেবুর। মাঝারি থেকে বড় আকারের লেবু প্রতি হালি ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে অতিরিক্ত দামের কারণে ক্রেতারা কেনাকাটা কমিয়ে দিলে চাহিদা হ্রাস পায়।
বাজারে শীতকালীন সবজি কেজিতে প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৭০ টাকা, ফুল কপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধা কপি ৩০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ১০০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, করলা কেজিতে ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১৬০ টাকা ও খিরাই ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এক হালি লেবু ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস। ক্যাপসিকামের দাম কমে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাকের আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাকের ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু ২০ টাকা। দেশি আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, চায়না আদা ২৪০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৭০-১৮০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১০০ টাকা, অ্যাংকরের বেসন ১০০ টাকা এবং বুটের ডালের বেসন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সোনালি কক মুরগি কেজি ৩৩০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার কেজি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। গরুর গোশত কেজিপ্রতি ৭৭০ থেকে ৮০০ টাকায়, খাসির গোশত কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজান উপলক্ষে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের পাইকারি পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তারা ৫০ শতাংশ কম লাভে পণ্য বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন। গোশত, তেল, ডাল, তেল, চাল, খেজুর এবং শরবতের জন্য ব্যবহৃত ট্যাংকসহ নিত্যপণ্যের দাম কম রাখবেন তারা। পণ্যভেদে এক থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়বে এবং ক্রেতারা তাদের এই উদ্যোগের সুফল পাবেন।
দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন জানান, তারা পুরো রমজানে পাইকারি নিত্যপণগুলো ৫০ শতাংশ কম লাভে বিক্রি করবেন। এসময় ঘোষণা দেওয়া হয়, কারওয়ানবাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হবে। আগে তা বিক্রি হতো ৭৮০ টাকায়। এছাড়া তারা চালে এক টাকা, তেলে দুই টাকা কমিয়ে পাইকারি দরে বিক্রির কথা জানান।
নির্ধারিত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। তিনি বলেন, ঢাকার মতো বড় শহরের প্রতিটি বাজারে একসঙ্গে সরকারি টিম পাঠানো বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ১০টি টিম নিয়মিত কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের মনে এই সচেতনতা তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য যে, তারা সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে আছেন। বাজার যেন গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে জিম্মি না থাকে সে বিষয়ে সরকারের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে এবং খুব শিগগিরই বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। রমজান বা উৎসবের আগে পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া খুবই দুঃখজনক। যে পণ্য ৪০-৫০ টাকা ছিল তা হঠাৎ ১২০ টাকায় উঠে যাওয়া কারো ভালো লাগার কথা নয়। অথচ বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, রমজান মাস সামনে রেখে দয়া করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেবেন না। আমি নিজেও ইবাদত করি, আপনারাও এই পবিত্র সময়ে মানুষের কষ্ট বাড়াবেন না। ঢাকা শহরের বিশাল জনসংখ্যার চাহিদাকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করছে। সরকার এ ধরনের কর্মকা- কঠোরভাবে দমন করবে।