• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

ঈদে ফাঁকা রাজধানী, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে স্বস্তি

sagar crime reporter / ৯৪ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

ঈদে ফাঁকা রাজধানী, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে স্বস্তি

 

 shaplanews.com

 

ঈদের ছুটিতে ঢাকার ব্যস্ততা অনেকটাই কমে আসে। বছরের অন্য সময় যেখানে যানজটে নাকাল হতে হয় নগরবাসীকে, সেখানে ঈদের এ কয়েকদিন শহর যেন নেয় স্বস্তির নিঃশ্বাস।

এ ফাঁকা শহরেই পরিবার নিয়ে বের হচ্ছেন মানুষ। কেউ ছুটছেন বিনোদন কেন্দ্রে, কেউ আবার রিকশায় চড়ে ঘুরে নিচ্ছেন পুরো শহর।

আজ ঈদের দিন (২১ মার্চ, শনিবার) সারাদিন ঢাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে শিশুদের উচ্ছ্বাস আর বড়দের স্বস্তি সব মিলিয়ে রাজধানীতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন এক ঈদচিত্র।

রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানাতে দুপুরের পর থেকেই শিশুদের নিয়ে বড়দের ভিড় ছিল। বাবা-মায়ের হাত ধরে ছোটরা ছুটেছে বাঘ, সিংহ, হাতি দেখার জন্য। প্রতিটি খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে তাদের চোখে বিস্ময় যেন বইয়ের ছবি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

মিরপুরের বাসিন্দা গার্মেন্টসকর্মী শিউলি আক্তার ঈদের দ্বিতীয় দিনে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। তিনি বলেন, বড় কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য নেই। তাই প্রতি ঈদেই এখানে আসি। বাচ্চারা সারা বছর অপেক্ষা করে এ দিনের জন্য।

তার ছয় বছরের ছেলে রায়হান বাঘ দেখে চিৎকার করে উঠছিল, এটা সত্যি নড়ছে! তার বিস্ময়ই যেন এ ভ্রমণের আসল আনন্দ।

অন্যদিকে পাশেই বোটানিক্যাল গার্ডেনে যেখানে শিশুদের থেকে বড়দের বেশি দেখা মিলেছে। খোলা মাঠে গাছের শীতল ছায়ায় মেতে উঠেছে অনেকে যেন এমন সবুজেই নিশ্বাস নিতে দীর্ঘ অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কেউ ঘাসে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন, কেউ ছবি তোলায় ব্যস্ত। শহরের সীমিত খোলা জায়গার মাঝে এ জায়গাটি যেন তাদের মুক্তির মাঠ হয়ে উঠেছিল।

মোহাম্মদপুর থেকে আসা এক পরিবার- বাবা, মা ও আট বছরের মেয়ে তানজিমা। তার বাবা বলেন, ঢাকায় বাচ্চাদের খেলার জায়গা খুব কম। এখানে এসে অন্তত দৌড়াতে পারে। তানজিমা তখন প্রজাপতির পেছনে ছুটছিল। মা হেসে বললেন, ওর এই হাসির জন্যই আসা আর এখানে অনেক গাছ রয়েছে, গাছের সাথেও ওদের পরিচিতি গড়ে ওঠা দরকার।

শুধু বড় বিনোদন কেন্দ্রই নয়, শিশু পার্ক, রমনা পার্ক এবং চন্দ্রিমা উদ্যানেও একই চিত্র। শিশু পার্কে নাগরদোলা, ট্রেন, বিভিন্ন রাইডে উঠতে শিশুদের লাইন। উচ্ছাস আর আনন্দ মিশ্রিত অভিব্যক্তি তাদের চোখে মুখে। আজ আবহাওয়াও যেন ঈদের আনন্দের পক্ষে ছিল। তাইতো সারাদিন স্বস্তি নিয়েই সবাইকে ঘুরতে দেখা গিয়েছে স্বচ্ছন্দে।
তবে শুধু শিশুদের আনন্দেই সীমাবদ্ধ নয় ঈদের ঢাকার গল্প। ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় ঘোরার আনন্দ নিচ্ছেন বড়রাও।

ধানমন্ডির বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ বন্ধুদের নিয়ে রিকশায় ঘুরেছেন ধানমন্ডি লেক এলাকায়। তিনি বলেন, সারা বছর জ্যামের শহরটা ঈদের সময় একদম অন্যরকম লাগে। রিকশায় বসে বাতাস খাওয়াই সবচেয়ে বড় রিল্যাক্সেশন।

আবার অনেক পরিবার শিশুদের নিয়েও রিকশায় বের হয়েছে। রাজধানীতে চলতি পথে অনেক এলাকায় দেখা যায়, বাবা-মা আর শিশু একসঙ্গে রিকশায় ঘুরছেন, রাস্তার পাশে থেমে আইসক্রিম খাচ্ছেন- এমন ছোট ছোট মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে ঈদের আনন্দ যা মুহূর্তেই আবার ক্যামেরাবন্দি হচ্ছে।

তবে এ আনন্দের মাঝেও কিছু ভোগান্তি রয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, পর্যাপ্ত টয়লেট ও বসার জায়গার অভাব অনেককে বিরক্ত করছে। তবুও শিশুদের হাসি আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় এসব কষ্টকে অনেকটাই আড়াল করে দেয়।

ঈদের ফাঁকা ঢাকায় তাই একদিকে শিশুদের দৌড়ঝাঁপ আর হাসি, অন্যদিকে বড়দের নির্ভার ঘোরাঘুরি দুই মিলিয়েই তৈরি হয়েছে নগরজীবনের এক ভিন্ন, মানবিক ও আনন্দময় চিত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ