এ ফাঁকা শহরেই পরিবার নিয়ে বের হচ্ছেন মানুষ। কেউ ছুটছেন বিনোদন কেন্দ্রে, কেউ আবার রিকশায় চড়ে ঘুরে নিচ্ছেন পুরো শহর।
এ ফাঁকা শহরেই পরিবার নিয়ে বের হচ্ছেন মানুষ। কেউ ছুটছেন বিনোদন কেন্দ্রে, কেউ আবার রিকশায় চড়ে ঘুরে নিচ্ছেন পুরো শহর।
রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানাতে দুপুরের পর থেকেই শিশুদের নিয়ে বড়দের ভিড় ছিল। বাবা-মায়ের হাত ধরে ছোটরা ছুটেছে বাঘ, সিংহ, হাতি দেখার জন্য। প্রতিটি খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে তাদের চোখে বিস্ময় যেন বইয়ের ছবি জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে পাশেই বোটানিক্যাল গার্ডেনে যেখানে শিশুদের থেকে বড়দের বেশি দেখা মিলেছে। খোলা মাঠে গাছের শীতল ছায়ায় মেতে উঠেছে অনেকে যেন এমন সবুজেই নিশ্বাস নিতে দীর্ঘ অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কেউ ঘাসে গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন, কেউ ছবি তোলায় ব্যস্ত। শহরের সীমিত খোলা জায়গার মাঝে এ জায়গাটি যেন তাদের মুক্তির মাঠ হয়ে উঠেছিল।
শুধু বড় বিনোদন কেন্দ্রই নয়, শিশু পার্ক, রমনা পার্ক এবং চন্দ্রিমা উদ্যানেও একই চিত্র। শিশু পার্কে নাগরদোলা, ট্রেন, বিভিন্ন রাইডে উঠতে শিশুদের লাইন। উচ্ছাস আর আনন্দ মিশ্রিত অভিব্যক্তি তাদের চোখে মুখে। আজ আবহাওয়াও যেন ঈদের আনন্দের পক্ষে ছিল। তাইতো সারাদিন স্বস্তি নিয়েই সবাইকে ঘুরতে দেখা গিয়েছে স্বচ্ছন্দে।
তবে শুধু শিশুদের আনন্দেই সীমাবদ্ধ নয় ঈদের ঢাকার গল্প। ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় ঘোরার আনন্দ নিচ্ছেন বড়রাও।
ধানমন্ডির বাসিন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ বন্ধুদের নিয়ে রিকশায় ঘুরেছেন ধানমন্ডি লেক এলাকায়। তিনি বলেন, সারা বছর জ্যামের শহরটা ঈদের সময় একদম অন্যরকম লাগে। রিকশায় বসে বাতাস খাওয়াই সবচেয়ে বড় রিল্যাক্সেশন।
আবার অনেক পরিবার শিশুদের নিয়েও রিকশায় বের হয়েছে। রাজধানীতে চলতি পথে অনেক এলাকায় দেখা যায়, বাবা-মা আর শিশু একসঙ্গে রিকশায় ঘুরছেন, রাস্তার পাশে থেমে আইসক্রিম খাচ্ছেন- এমন ছোট ছোট মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে ঈদের আনন্দ যা মুহূর্তেই আবার ক্যামেরাবন্দি হচ্ছে।
তবে এ আনন্দের মাঝেও কিছু ভোগান্তি রয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, পর্যাপ্ত টয়লেট ও বসার জায়গার অভাব অনেককে বিরক্ত করছে। তবুও শিশুদের হাসি আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় এসব কষ্টকে অনেকটাই আড়াল করে দেয়।
ঈদের ফাঁকা ঢাকায় তাই একদিকে শিশুদের দৌড়ঝাঁপ আর হাসি, অন্যদিকে বড়দের নির্ভার ঘোরাঘুরি দুই মিলিয়েই তৈরি হয়েছে নগরজীবনের এক ভিন্ন, মানবিক ও আনন্দময় চিত্র।