• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

হুট করেই অভিনয়ে এসে আলোচনায়, কে এই অভিনেত্রী

sagar crime reporter / ৩০ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

হুট করেই অভিনয়ে এসে আলোচনায়, কে এই অভিনেত্রী

 

বঙ্গতে ফয়সাল আগুনের ওয়েব ফিল্ম ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’য় অভিনয় করে আলোচনায় তরুণ অভিনেত্রী জিন্নাত ফারজানা। ছোট পর্দার আরও বেশ কিছু আলোচিত প্রকল্পে তাঁকে দেখা গেছে।

টিভিতে চলছিল ঈদের নাটক ‘বউ বিভ্রাট’। পরিবারের সঙ্গে বসে নিজের অভিনীত নাটক দেখছেন জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী। নিজের নাটক পরিবারের সবাই মিলে দেখতেই পারেন। তবে এ দেখার অন্য একটা অর্থ আছে। এখানে এক গ্রামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন চাঁদনী। তিনি বড় হয়েছেন ঢাকায়। নাটকে গ্রামের মেয়ের চরিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক তাঁর ছিল না। পরদিন শুটিং, পরিচালক বলে দিয়েছেন, নিজেকেই কস্টিউমের ব্যবস্থা করতে হবে। কী করা যায়! বাসায় চাচাতো বোনের কাছে চরিত্রটির উপযোগী অনেক পোশাক আছে। কিন্তু শুটিংয়ের কথা বললে কখনোই দেবেন না। অগত্যা গভীর রাতে বড় বোনের সঙ্গে মিলে কাজিনের পোশাক চুরি করে শুটিংয়ে গিয়েছিলেন! সেই নাটকই দেখছিলেন আর আড়চোখে কাজিনের দিকে তাকাচ্ছিলেন চাঁদনী। না জানি কী প্রতিক্রিয়া হয়! কিন্তু মোশাররফ করিমের সঙ্গে চাঁদনীর দৃশ্য দেখে বোন আর কিছু বললেন না। বরং ঘটনা বলতে বলতে একচোট হাসাহাসি হলো।

ডিসপ্লেতেও ভয়

রক্ষণশীল পরিবার। সেটা এতটাই যে স্কুলের বার্ষিক ডিসপ্লেতে অংশ নেওয়ার কথাও পরিবারকে বলতে সাহস পেতেন না চাঁদনী। স্কুল–কলেজে আবৃত্তি করতেন, পুরস্কারও পেয়েছেন। ব্যস, এতটুকই। ‘জানতাম পরিবার মেনে নেবে না। তাই অভিনয়ের স্বপ্ন দেখারই সাহস ছিল না,’ বলছিলেন চাঁদনী।

স্কুল–কলেজের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হলেন ইডেন কলেজে। পরিবারের রাশও একটু আলগা হলো, ক্যাম্পাসের সিনিয়র আপুদের সান্নিধ্য একটু একটু করে বদলে দিল চাঁদনীর জীবনের গতিপথ। ‘ক্যাম্পাসে তো অনুষ্ঠান লেগেই থাকত। সবার সঙ্গে শাড়ি পরে প্রচুর ঘোরাঘুরি হতো। টিএসসিতে তখন প্রচুর ফটোগ্রাফার। সবাই ছবি তুলত, আমিও ছবি তুলতাম। এক আপু আমার ছবিগুলো দেখে বলেছিলেন, “তোকে তো মডেলের মতো লাগছে।” উনিই পরে এক পরিচালককে দেন। এভাবে অভিনয়ে যুক্ত হওয়া,’ বলছিলেন চাঁদনী। শুরুতে বিষয়টাকে স্রেফ মজা হিসেবে নিয়েছিলেন। কিন্তু একদিন সত্যি সত্যি নাটকে সুযোগ পেয়ে গেলেন তিনি।

২০২৩ সালে চাঁদনীর পর্দায় প্রথম কাজ শামস করিমের ‘খোঁচা’। প্রধান চরিত্রে ছিলেন মোশাররফ করিম ও নিশাত প্রিয়ম। মোশাররফ করিমের সঙ্গে চাঁদনীর ছোট্ট একটা দৃশ্য ছিল। এভাবে শুরুর দিকে ছোট ছোট চরিত্রে কাজ করতেন। ধীরে ধীরে চরিত্রের পরিসর বড় হতে থাকে। দ্বিতীয় প্রধান, পরে প্রধান চরিত্রেও সুযোগ মিলতে থাকল। এভাবেই ‘রঙিলা পুতুল’, ‘শাদি মোবারক’ থেকে ‘বিশ্বাস বনাম সরদার’ ইত্যাদি ধারাবাহিকে সুযোগ মিলল। তবে চাঁদনীর মন ভরছিল না, চাইছিলেন আরও বড় প্রকল্প। প্রথম ওয়েব ফিল্ম দিয়ে সে ইচ্ছা পূর্ণ হলো।

‘তোমাকে হলো না পাওয়া’য় প্রীতি প্রাণবন্ত এক কলেজছাত্রী। বাবার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর। কিন্তু আবির নামের এক ভয়ংকর স্থানীয় গ্যাংস্টারের নজরে আসার পর বদলে যায় প্রীতির শান্ত জীবন। ওয়েব ফিল্মটি দিয়ে পরিবার, সহকর্মী থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা পাচ্ছেন চাঁদনী। ‘টিভি আর ইউটিউবে তো অনেক নাটক হয়, অনেকের হয়তো চোখেই পড়ে না। ওয়েব ফিল্ম একটু বড় পরিসরে হয়, আর এটার গল্প, আমার চরিত্র সব মিলিয়ে ক্লিক করে গেছে,’ বলছিলেন চাঁদনী। ওয়েব সিনেমাটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন জোনায়েদ বোগদাদী।

‘তোমাকে হলো না পাওয়া’র দৃশ্য। ছবি : অভিনেত্রীর সৌজন্যে
‘তোমাকে হলো না পাওয়া’র দৃশ্য। ছবি : অভিনেত্রীর সৌজন্যে

মোশাররফ প্রেরণা

প্রথম নাটকের সহকর্মী মোশাররফ করিমের সঙ্গে পরে আরও অনেক কাজ করেছেন চাঁদনী। কাজ করেছেন চঞ্চল চৌধুরীসহ আরও পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে। তবে সবার মধ্যে মোশাররফ করিমের কথা আলাদাভাবে বলতে চান এই তরুণ অভিনেত্রী, ‘তাঁর (মোশাররফ করিম) কাজ দেখে আমি বড় হয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই প্রথমবার কাজ করতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে যাই। কিন্তু উনি যেমন অসাধারণ অভিনেতা, তেমনই অসাধারণ মানুষ আর মেন্টর। আমাকে দেখেই বুঝেছিলেন যে নার্ভাস হয়ে গেছি। গল্প করে, ঝাড়ি দিয়ে আমাকে সহজ করেছেন। পরেও তাঁর সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। কাজ ছাড়াও নানা বিষয়ে কথা হয়। আমি তাঁকে বলি জীবন্ত বই। তাঁর কাছ থেকে এত কিছু যে শিখেছি…!’

জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী। শিল্পীর সৌজন্যে
জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী। শিল্পীর সৌজন্যে

শুরুতেই চাঁদনী বলছিলেন, তাঁর পরিবার নাটকে কাজ করা পছন্দ করত না। সেই ‘না’ যে শেষ পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ হয়েছে, সেটার কারণও মোশাররফ করিম আর চঞ্চল চৌধুরীর মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ। ‘মা–বাবা থেকে পরিবারের সবারই পছন্দের তারকা তাঁরা। আমি যখন টানা তাঁদের সঙ্গে কাজ করেছি; পরিস্থিতি সহজ হয়ে গেছে,’ বললেন চাঁদনী।

নিজের আয়নায়

প্রথম নাটকে চাঁদনীর মনে হয়েছিল, অভিনয় তিনি মন্দ করেন না। নিজের আবেগ চেপে রেখে নিমেষেই চরিত্রে মিশে যেতে পারেন। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে তাঁর মনে হচ্ছে, ‘অভিনয়ের কিছুই পারি না।’ ‘তিন বছর হলো কাজ করছি। না চাইতেই অভিনয় এখন আমার পেশা হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন আর চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেলেই মনে হয়, এখনো কত কিছু শেখা বাকি,’ বলছিলেন চাঁদনী। সামনে বেশ কয়েকটি একক নাটক করবেন, ওটিটির কয়েকটি প্রকল্পেও যুক্ত হয়েছেন। সেখানে অভিনয়ের উন্নতির ছাপ রাখতে চান এই তরুণ অভিনেত্রী। আরও একটা চাওয়া আছে, তিনি যেমন কথায় কথায় মোশাররফ করিমের প্রেরণার কথা বলেন; চান তাঁকে নিয়েও একদিন এমন বলুক কোনো তরুণ অভিনয়শিল্পী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ