দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। শুরুতেই হারিয়ে ফেলে দুই উইকেট। এরপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও বিদায় নেন দ্রুতই। এতে কিছুটা চাপেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে সেই চাপ কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধবাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টেস্টে তৃতীয় দিনের চার-বিরতিতে যাওয়ার আগে ৩৬ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে লিড দাঁড়িয়েছে ২৩০ রানের। ৭৩ বলে ২৩ রানে অপরাজিত আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত আর ৭০ বলে ৪৮ রানে মুশফিকুর রহিম।
তামিম ফেরার পর দক্ষহাতে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। অবশ্য তাদের উপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে। ইতোমধ্যে চতুর্থ উইকেটে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়েছেন মুশফিক আর শান্ত।
দারুণ ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরির কাছে পৌছে গিয়েছেন মুশফিক। শান্ত অবশ্য কিছুটা ধরিগতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন।
দুই উইকেট হারিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ
আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। টপঅর্ডারের দুই ব্যাটারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ১০.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে গেছে টাইগাররা। এতে বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১৫০ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে ১৩ রান করে ফিরেছেন সাদমান ইসলাম। মোহাম্মদ সেলিমের বাউন্সারে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর ৭ রান করে আউট হন মুমিনুল হক। ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
হাসানের পেস আগুনে পুড়ে থামল আফগানিস্তান, বড় লিড বাংলাদেশের
৬ উইকেট হাতে রেখে ২১১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল আফগানিস্তান। তবে তৃতীয় দিনটা তাদের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। দিনের শুরুতেই টাইগার পেসারদের তোপের মুখে পড়েন আফগান ব্যাটাররা। সেটি সামাল দিয়ে আর বেশি দূর যেতে পারেননি তারা। তৃতীয় দিন মাত্র ২৯ রান তুলেই শেষ হয়েছে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
তৃতীয় দিন দ্বিতীয় নতুন বল পেয়ে দুই পাশ থেকেই পেস আক্রমণ করছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। সেটার সুফল পেতে খুব একটা দেরি হয়নি। তৃতীয় দিনের তৃতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন এবাদত হোসেন। আফগান উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইকরাম আলীখিলকে ফিরিয়ে ভাঙেন ২১১ বলে ৮০ রানের জুটি। যেই জুটি গতকাল বাংলাদেশের মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছিল। ইকরাম ফেরেন ১০৩ বলে ৩২ রান করে।
এর পরের গল্পটা হাসান মাহমুদের। আগের দিন নিজের নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করতে পারেননি তিনি। মোটে একটি উইকেট নিতে পেরেছিলেন। তবে হাসান যেন সব তোলা রেখেছিলেন তৃতীয় দিন সকালের জন্য। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের সঙ্গে তুলে নিয়েছেন ফাইফারও।
দিনের চতুর্থ আর ইনিংসের ৪৩তম ওভারে হাসান বল করতে আসলেন, বল করলেন আর জয় করলেন– গল্পটা এভাবেও বলা যায়। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ আর পঞ্চম টানা তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিলেন হাসান। গড়লেন ইতিহাসও। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক এখন হাসানের নামের পাশে। রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ আর জিয়া-উর-রহমানকে।
শুধু হ্যাটট্রিকই আফগানদের পরের টানা চারটি উইকেটই নিজের ঝুলিতে পুড়েন হাসান। ইনিংসের ৮৭তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ফেরা ইয়ামিন আহমাদজাইকে। তাকেও রানের খাতা খুলতে দেননি। আফগান এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে ফাইফার তুলে নেন হাসান। টেস্টে এটি তার চতুর্থ ফাইফার।
হাসানের আগ্রাসন শেষে আফগানিস্তানের বাকি উইকেটটি তুলে এবাদত। শেষ ব্যাটার হিসেবে ফেরান মোহাম্মদ সালিমকে। বাকিদের যাওয়া-আসার ভীড়েও একপ্রান্ত আগলে রেখে স্বাগতিকদের হয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন অধিনায়ক রহমত শাহ। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিও। শেস পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ২১৬ বল থেকে ১০৫ রানে।








