• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
এখনই ডিলিস্টিং হচ্ছে না বন্ধ কোম্পানি : বিএসইসি ঢাকায় ২০০৯ সালের পর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড রথযাত্রা ঘিরে রাজধানীতে থাকবে সোয়াট ও গোয়েন্দা টিম: ডিএমপি কমিশনার হাসিনা দেশে ফেরা মাত্রই কারাগারে যাবেন: প্রধান কৌঁসুলি রাজধানীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ৪১ আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে বিতর্কিত লাল কার্ড নিয়ে মুখ খুললেন সুইজারল্যান্ড কোচ মধু ও কালোজিরা একসাথে খেলে কী হয়? বিজ্ঞান যা বলছে ২৪ ঘণ্টায় ৬ বিভাগে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্য ইরানে ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, হরমুজে হামলার শিকার আরেকটি জাহাজ
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে

sagar crime reporter / ১২ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে

 

shaplanews.com

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (ভিডিপি) আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ বাহিনীতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এছাড়াও বাহিনীকে আধুনিক কমব্যাট প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক কণ্ঠস্বর নামে ডিজিটাল মিডিয়া সেলের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ১১৪তম পরিচালনা বোর্ড সভায় ডিজিটাল রূপান্তর ও সেবার সম্প্রসারণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি সঞ্জীবন প্রকল্পবিষয়ক কর্মশালা আয়োজন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া-২০২৬ এবং স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (এসআইঅ্যান্ডটি)-এ সদস্যদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং টেকসই জাতীয় উন্নয়নে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। মানুষের আস্থা অর্জন, মানবিক মূল্যবোধ, সততা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কার্যকর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ বাহিনীকে।

তিনি বলেন, এ বাহিনী বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি স্থাপনা বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলওয়ে স্টেশন, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিজেড, শিল্পাঞ্চল, মেট্রোরেল স্টেশন, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা, বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস, আইসিডিডিআরবি, পাসপোর্ট অফিসসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং অন্যান্য নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে সাহায্য করছে আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও ঈদ, দুর্গাপূজা ও বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নৌযান নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে বাহিনীর সদস্যরা দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

আনসার মহাপরিচালক বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধার কাজে অংশগ্রহণ এবং ত্রাণ বিতরণে কাজ করছে বাহিনীর সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেলাই, কম্পিউটার, মৎস্য চাষ প্রশিক্ষন দেওয়ার মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ ও গ্রামীণ জনবলের আত্মকর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখছে আনসার বাহিনী।

দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আনসার সদস্যদের সক্ষমতা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

জাপানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আনসার পুরুষ সদস্যদের জন্য বিশেষায়িত সিক্স জি ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণ ও ৫২০ জন নারী সদস্যের জন্য ৯০ দিনব্যাপী জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ এবং মলদোভায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ৩০০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বাহিনীকে দক্ষ করার অংশ হিসেবে নিজস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রান্তিক কণ্ঠস্বর উদ্বোধন করা হয়েছে।

এছাড়াও ৪৭টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোতায়েন ১৬টি ব্যাটালিয়নের সাড়ে ৬ হাজারের অধিক সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে রাজবাড়ী, মাদারীপুর, পটুয়াখালী, রংপুর, ঢাকা, সুনামগঞ্জ, মেহেরপুর, নরসিংদী ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত ১৪টি মোবাইল কোর্ট অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

এসব অভিযানে অবৈধ ব্যবসা, ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন, পরিবেশবিধি অমান্য, মিটার জালিয়াতি, অবৈধ মাছ ধরা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও অর্থ আদায় করা হয়েছে।

সমতলের ৩১টি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলে ১৩ হাজারের অধিক হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, পাহাড়ধস মোকাবিলা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ এবং স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

এছাড়াও প্রায় ৫৬ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য ৬ হাজারের অধিক আনসার গার্ডে বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করছেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করে পুশইন প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

আনসার মহাপরিচালক বলেন, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ইউনিয়ন দলনেতা ও দলনেত্রী, প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোম্পানি কমান্ডার, সহকারী কোম্পানি কমান্ডার, প্লাটুন কমান্ডার ও মহিলা প্লাটুন কমান্ডার এবং ৬ হাজারের অধিক ভাতাভোগী ওয়ার্ড দলনেতা ও দলনেত্রী মাদকবিরোধী কার্যক্রম, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

অগ্নিকাণ্ড, বন্যা, পাহাড়ধস ও ভারী বর্ষণজনিত দুর্যোগে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, সৈয়দপুর, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিনির্বাপণে সহায়তা প্রদান, বান্দরবানের লামা, যশোরের শার্শা, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, যোগাযোগ পুনরুদ্ধার, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, উদ্ধার অভিযান এবং দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি বলেন, বন্যাকবলিত সুনামগঞ্জে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণসহ বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক কার্যক্রমও বাস্তবায়িত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা নিরাপত্তা জোরদারে চলতি বছর ১ জুলাই  থেকে দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে চিকিৎসক, রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দালালচক্র প্রতিরোধ, সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জামের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার সদস্যের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ আনসার বাহিনী ১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে এটি দেশ গঠন ও বিভিন্ন সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সারাদেশে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) মোট সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ