Published : 26 Apr 2026,
বৈশাখের রুদ্রতাপে কয়েকদিন ধরে হাঁসফাঁস করার পর স্বস্তির বৃষ্টি দেখল রাজধানীবাসী। কিছু সময়ের বজ্রসহ বৃষ্টিতে অফিস ফেরত মানুষজন ঝামেলায় পড়লেও ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি মেলে কিছুটা।
রোববার বিকাল হতে না হতেই রাজধানী ঢাকার আকাশ মেঘলা হতে শুরু করে। কোথাও কোথাও সামান্য বৃষ্টির পর তা অল্প সময়েই থেমে যায়। পরে সন্ধ্যা না হতেই শুরু হয় বর্ষণ। আকাশ কালো করে বেশ কিছুক্ষণ তুমুল বৃষ্টি নামে; সঙ্গে চলে বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রপাত।
বৃষ্টিতে পথচারী, ফুটপাতের দোকানি আর হকাররা পড়েন বেকায়দায়। বৃষ্টির তোড়ে দোকান গুটিয়ে ফেলতে দেখা যায় তাদের। সড়কে থাকা মানুষ আশ্রয় নেন দোকান-পাট আর বহুতল ভবনের নিচে। তুমুল বর্ষণে কিছু সড়কের ধারে জমে যায় পানিও।
রাজধানী ঢাকায় দিন কয়েক ধরে তাপমাত্রা চড়তে থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। শ্রমজীবী মানুষ বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর, হকার আর ভাসমান মানুষ রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। বিকালের বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা রোববার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঢাকায় গেল কয়েক ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে রাতে আর তেমন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।”
আবহাওয়া অধিদপ্তর অবশ্য আগেই কালবৈশাখী সম্পর্কিত সতর্কবার্তায় বলেছিল, রোববার দুপুর ১২টার পর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে।
এছাড়া রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত এবং কোথাও-কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলে পৃথক সতর্কবার্তা দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটিতে; পার্বত্য এই জেলায় তাপমাত্রার পারদ চড়েছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুর ও সিলেটের শ্রীমঙ্গলে; ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।