জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব
shaplanews.com
সংশ্লিষ্ট পরিবহনগুলোর চালক ও হেলপাররা জানান, তারা নতুন চার্ট পেয়েছেন এবং দ্রুতই তা প্রতিটি গাড়িতে টাঙানো হবে। চার্ট টাঙানোর পর থেকে নতুন ভাড়া কার্যকরভাবে আদায় করা হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে গত কয়েকদিন ধরে বাসের কন্ডাক্টর যাত্রীদের কাছ থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কথা বলে বাড়তি ভাড়া নিলেও দিনের শেষে মালিকদের কাছে আগের তুলনায় গাড়ির জমার টাকা কম দিয়েছেন। এতে মালিক পক্ষও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে গাড়ি চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় তেলের সংকটের কথাও বলছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে বাড়তি ভাড়া না পেলে গাড়ি চালানো টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে দাবি তাদের।
এদিকে যাত্রীরা বলছেন, ভাড়া বাড়ানোর আগে চার্ট প্রদর্শন ও টিকিট ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে অনেক বাসে টিকিট নেই এবং ভাড়ার নির্দিষ্ট তালিকাও ঝুলানো হয়নি। এতে বাসের স্টাফদের সঙ্গে অনেক সময় তর্ক করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, নতুন ভাড়া কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। নতুন বাস ভাড়া এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে চন্দ্রা যাচ্ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইসতিয়াক। কত টাকা ভাড়া দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি জানান নতুন বাস ভাড়ার চার্টের ভাড়া নিয়েছেন কন্ডাক্টর।
ডেমরার স্টাফকোয়াটার থেকে অছিম পরিবহনে রামপুরা ব্রিজে এসে নেমে ২৫ টাকা ভাড়া দিয়েছেন কার্ভাডভ্যানচালক কবির। তিনি জানান, তিনি পুরোনো ভাড়াই দিয়েছেন।
রাজধানী সুপার পরিবহনের কন্ডাক্টর মামুন বলেন, গত ১৫ বছর ধরে আমি মোটর লাইনে আছি। যাত্রীদের কাছে নতুন ভাড়া চাইলে তারা বলেন, তেলের দাম কয় টাকা বাড়ছে। চার্ট দেখাও। চার্ট দেখালে বলে আরে এসব ভুয়া। তবুও নতুন ভাড়ার জন্য জোর করতে হয়।
তিনি বলেন, নতুন ভাড়ার চার্ট গাড়িতে টাঙানো হয়েছে। তবুও যাত্রীরা চিল্লাচিল্লি করে। তেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ছে। আপনারা যদি পাঁচ-দশ টাকা না দেন, আমরা তো বাড়তি দামে তেল কিনি, তাহলে চলবো কীভাবে? অনেক জায়গায় তেলের অভাবে গাড়ি চলছে না। এসব কথা বলার পরও যাত্রীরা কথা শোনে না। উল্টো আমাদের সঙ্গে চিল্লাচিল্লি করে। একজনের দেখা দেখিতে অন্য যাত্রীরাও ভাড়া কম দিতে হট্টগোল করে।
রাজধানী ভিআইপি পরিবহনের চালক মো. নুর হোসেন বলেন, আমরা মিরপুর ১২ নম্বর থেকে কালিয়াকৈর যাই। নতুন ভাড়া চাইলে যাত্রী আমাদের দেয় না। যাত্রীদের নতুন চার্ট দেখালে বলে এসব ভুয়া। কালিয়াকৈর থেকে আসার সময় এক আমার সঙ্গে এক যাত্রী ঝগড়াও করেছে।
রাজধানী পরিবহনের কন্ডাক্টর জিতু বলেন, নতুন ভাড়া নিতে চাচ্ছি। কিন্তু পাবলিক দিতে চায় না।
যাত্রীরা আরও বলে চার্ট দেখাও টিকিট দাও আরও হ্যানত্যান। আমরা টিকিট পাবো কই? মালিকতো আমাদের টিকিট দেয়নি।
রাজধানী সুপার (রেড) ভিআইপি বাসের চালক রকিবুল ইসলাম বলেন, চার্ট পাওয়ার পর গতকাল থেকেই (২৫ এপ্রিল) নতুন ভাড়া নিয়েছি। আমার গাড়ি মিরপুর ১২ নম্বর থেকে সাভার, নবী নগর ও চন্দ্রা পর্যন্ত যায়। যাত্রীদের কাছে নতুন ভাড়া চাইতে গেলে হট্টগোল করে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহাম্মেদ খোকন বাংলানিউজকে বলেন, নতুন বাস ভাড়ার চার্ট দেওয়া হয়েছে। ঢাকা সিটিতে কম দূরত্বের ভাড়া নিতে সমস্যা হচ্ছে। যেসব গাড়ি ঢাকার বাইরে যাচ্ছে তারা নতুন ভাড়া নিতে শুরু করেছে। আশা করি দ্রুতই নতুন ভাড়া আদায় করবেন বাস মালিকরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এবং আন্তজেলা রুটে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়। নতুন নির্ধারিত হার অনুযায়ী, মহানগরে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া দুই টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে দুই টাকা ৫৩ পয়সা হয়েছে। আন্তজেলা বাসে তা দুই টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে দুই টাকা ২৩ পয়সা।