পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা ছেড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। গ্রামে থাকা বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা ফিরেছেন আপনালয়ে।
গত কয়েকদিনে নৌ, বিমান ও সড়কপথে বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্রামে ফিরে যাওয়ায় যানজটের শহর রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। ফলে যে কেউ চাইলে রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত পৌঁছাতে পারছেন।
আজ পবিত্র ঈদুল আজহার দিন দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। বিভিন্ন সড়কে সীমিত সংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে।
রাস্তা ফাঁকা পেয়ে বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা দ্রুতগতিতে গন্তব্যে ছুটে যাচ্ছেন। অন্যান্য সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে যত সময় লাগতো, তার অর্ধেকেরও কম সময়ে বিভিন্ন স্থানে অনায়াসে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। সকালে নামাজ শেষে কোরবানির পশু জবাই করে কাটাকাটিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। যারা ভোরে নামাজ পড়ে পশু জবাই করেছেন, তাদের অনেকের গরু-ছাগল কাটাকাটির কাজ দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
তাদের অনেকেই এখন আত্মীয়স্বজনের বাসায় মাংস পৌঁছে দিতে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
রাজধানীর রায়েরবাজারের বাসিন্দা আবু হায়াত প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাসা থেকে মাংস নিয়ে লালবাগে ফুপুর বাসায় যাচ্ছিলাম। সকাল সাড়ে ৫টায় উঠে ৭টায় নামাজ পড়ে ফিরে এসে গরু জবাই ও কাটাকাটিতে ব্যস্ত থাকায় খুব পরিশ্রান্ত ছিলাম। তাই একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় উঠে ক্লান্ত দেহে চোখ বন্ধ করেছিলাম। কিছুক্ষণ পরই দেখি গন্তব্যে পৌঁছে গেছি। স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা শহরে এ পথে আসতে ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় লাগতো, যেখানে আজ লেগেছে মাত্র ১০ মিনিট।’
আজিমপুর থেকে গাবতলী রুটে চলাচলকারী বাসচালক মাসুদ আলম জানান, আজ যাত্রী কম হলেও গাড়ি চালিয়ে মজা পাচ্ছি। অন্যান্য সময়ে যানজটের কারণে বারবার ব্রেক করতে হয়। কিন্তু আজ শুধু বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রী ওঠানামার সময় ছাড়া আর একবারও ব্রেক করতে হয়নি।’
শাহজাহানপুরের জরিনা খাতুন বলেন, ‘ঈদের ছুটির কয়েকদিন তিনি ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়ানো খুব উপভোগ করেন। অন্যান্য সময়ে ঢাকা শহরকে যন্ত্রণার মনে হলেও এ সময় এলে মনে হয়, ঢাকা যদি সব সময় এমন থাকতো।’