গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে বাকি আর মাত্র ১৯ দিন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ফুটবলপ্রেমীদের মনে জমা হচ্ছে পুরোনো সব রোমাঞ্চকর স্মৃতি। বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায় ‘উনিশ’ সংখ্যাটিকে একটি রোমাঞ্চকর অধ্যায় করে রেখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে এক ইতিহাস গড়েছিল ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। সেবার পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের জালে ১৯ বার গোল উৎসব করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা।
১৯৭০ সালের সেই ব্রাজিল দলটিকে ফুটবল বিশ্বে আজও অন্যতম সেরা ও সুন্দর ফুটবল খেলা দল হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্রুতই তাদের নাম হয়ে যায় ‘দ্য বিউটিফুল টিম’ বা অনিন্দ্য সুন্দর দল। শিরোপা জেতার পথে খেলা ৬ ম্যাচে তারা করেছিলেন মোট ১৯টি গোল।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর মধ্যে কেবল একটি দলই এক আসরে এর চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছিল। ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ২৫টি গোল করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি।
অন্যদিকে, এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। সেবার টিকিটাকা ফুটবল খেলে বিশ্বজয় করলেও পুরো টুর্নামেন্টের ৭ ম্যাচে মাত্র ৮টি গোল করেছিল স্পেন, যা বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম গোল করার রেকর্ড।
নবম বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এই গোলবন্যার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন চার তারকা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭টি গোল করেছিলেন জাইরজিনহো। এছাড়া ফুটবল সম্রাট পেলে করেছিলেন ৪টি গোল, রিভেলিনো ৩টি এবং তোস্তাও করেছিলেন ২টি গোল।
কোচ মারিও জাগালোর অধীনে থাকা সেই ব্রাজিল দলটি গ্রুপ পর্বের চেয়ে নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোতে আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল। ১৯টি গোলের মধ্যে ১১টি গোলই এসেছিল শেষ তিনটি নকআউট ম্যাচে। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা পেরুকে ৪-২, সেমিফাইনালে উরুগুয়েকে ৩-১ এবং ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয়।
ইতালির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কার্লোস আলবার্তোর করা সেই বিখ্যাত গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে ৪-১ ব্যবধানের এই জয়টি বিশ্বকাপের ফাইনালে যৌথভাবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জেতার রেকর্ড হিসেবে এখনও টিকে আছে।








