shaplanews.com
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬
কিছু সময় বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি উঠছে চরমে। রোববারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি ঢেউ খেলে যায়। অফিস থেকে ঘরমুখী মানুষকে পড়তে হয় ভয়াবহ বিড়ম্বনায়। সড়কগুলোতে দেখা যায় তীব্র যানজট।
আষাঢ়ের শুরু থেকেই রাজধানীর আকাশে প্রতিদিন চলছে মেঘের আনাগোনা। মাঝে মাঝেই হচ্ছে বৃষ্টি। কখনো ভারী, মাঝারি বা হালকা। রোববারও আকাশ ছিল মেঘলা। কিন্তু বিকেল হতেই রাজধানীর আকাশ যেন অন্ধকার হয়ে আসতে শুরু করে। অফিস ছুটির পরপরই শুরু হয় হালকা গুড়িবৃষ্টি। সাড়ে ৪টার দিকে পরিণত হয় মুষলধারায়। টানা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলতে থাকে। ততক্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ডুবে যায়। অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাজপথে তৈরি হয় ভয়াবহ যানজট।
আবহাওয়া অফিস জানায়, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতেই বিভিন্ন স্থানে পানি থৈ থৈ করতে থাকে। হাটুসমান পানি জমে নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যানজট। পানির তোড়ে অনেক স্থানে ম্যানহোলের ক্যাসপিটে ময়লা আবর্জনা জমে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সিটি করপোরেশনের কোনো মাঠকর্মীকে দেখা যায়নি। গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিভিন্ন সড়কে প্রাইভেট কার ও সিএনজি অটোরিকশাকে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। যেসব এলাকায় সড়ক খোড়াখুড়ি চলছে, সেসব এলাকায় নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সব সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে ওঠে। অনেক ক্রসিংয়ে ট্রাফিক পুলিশকে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যেসব ক্রসিংয়ে এআই দিয়ে যানবাহন ব্যবস্থাপনা করা হয়, সেখানেও এআই অকার্যকর হয়ে পড়ে।
এদিকে বৃষ্টির কারণে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার কালসী মোড়ে কোমরসমান পানি দেখা যায়। নিউমার্কেট এলাকা পুরো পানির নিচে চলে যায়। ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের দোকানগুলোতেও পানি ঢুকে পড়ে। গ্রিন রোডজুড়ে পানি থৈ থৈ করার মতো দৃশ্য দেখা দেয়। পুরান ঢাকার কাজী আলাউদ্দিন রোডও পানিতে তালিয়ে যায়। কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ, মধ্য বাড্ডা, গ্রিন রোড, ধানমন্ডি ২৭, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর ১০, ১৩ ১৪ নম্বর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত বাইপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানায়, জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের জন্য ৫ হাজার ৩০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করছে। প্রতি টিমে ১০ জনকে দিয়ে ১০টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ শুরু করে। হটলাইনে (১৬১০৬), আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয়ে খবর যাবার সঙ্গে সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ডিএসসিসির ৯১টি দল কাজ করছে। প্রতিটি দলে ৫ জন করে কর্মী রয়েছে। কোথাও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।