জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক ও ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং প্রবল গণরোষে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বীর জুলাই যোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ইয়ামিন, ফারহান, নাফিজ, তাইম, নাঈমা, শিশু রিয়া গোপ ও আহাদসহ আত্মোৎসর্গকারী হাজারো বীর শহীদকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিও গভীর সম্মান ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের বিরল আত্মত্যাগ, অসীম সাহস ও অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে এবং তা অনন্তকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গত দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, বৈষম্য, সীমাহীন দুর্নীতি, শোষণ, গুম-খুন, দলীয়করণ; গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা হরণ এবং জেল-জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের অপ্রতিরোধ্য বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বাণীতে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাষ্ট্রীয় অনিয়ম, নিপীড়ন, দুর্নীতির ফলে জনমনে সঞ্চিত ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরস্ত্র শিক্ষার্থী-জনতার ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সর্বব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষক, তরুণ-যুবসমাজ, রাজনৈতিক কর্মী, শ্রমজীবী, কর্মজীবী, ভ্রাতা-ভগ্নি, কন্যা-জায়া, জননীসহ সর্বস্তরের মানুষ অসীম সাহস ও ত্যাগের প্রতিজ্ঞা নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসেন এবং তারা সবাই জুলাই যোদ্ধা।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণই সব রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই চিরন্তন সত্য আবারও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় এমন একটি মানবিক ও গণমানুষের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার ও উগ্রপন্থার ঠাঁই হবে না। একই সঙ্গে বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অন্যায়ের অবসান, ভোটাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার, মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসন, জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আশ্বাস প্রদান করেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।








