shaplanews.com
নামের শুরুতে ‘আম’ আছে শুধু তা-ই না, আমড়া কিন্তু আসলেই আমের জাত ভাই! বৈজ্ঞানিকভাবে দুটোই Anacardiaceae (অ্যানাকার্ডিয়েসি) পরিবারের সদস্য। কাঁচা অবস্থায় খেতেও কাছাকাছি স্বাদের। কিন্তু আম যতটা সমাদৃত, ততটা নয় আমড়া। অথচ ‘আন্ডার-রেটেড’ এই ফলটিই পুষ্টিগুণে অতুলনীয়!
ভিডিও দেখুন- আমড়া: সস্তায় প্রচুর পুষ্টি, কমলার দ্বিগুণ ফাইবার! কীভাবে খেলে বেশি উপকার?
সিজনাল রোগব্যাধির সেরা প্রতিরোধক হলো সিজনাল ফল। আর আমড়া একাজে সেরা!
যদিও ফলটি ঠিক আমাদের দেশি নয়, এসেছে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে, তবে এটি আমাদের আবহাওয়ার সাথে নিজেকে এমনভাবে মানিয়ে নিয়েছে যে ৯৯% মানুষ একে দেশি ফলই মনে করে। আর সিজনাল দেশি ফলের মতোই আমড়া ঢাল হয়ে দাঁড়ায় সিজনাল রোগ বালাইয়ের সামনে।
শীতের শুরুতে অনেকেই আক্রান্ত হন সর্দিকাশি, মানে কমন ফ্লু-তে। আর তখন দ্বারস্থ হন কমলার। অথচ ৮/১০ গুণ দাম দিয়ে কমলা আপনাকে কিনে খেতে হবে না, যদি শীত আসার আগে থেকেই নিয়মিত আমড়া খান। কারণ দামে সস্তা হলেও প্রচুর ভিটামিন সি আছে আমড়ায়। শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্দিকাশি, ফ্লু ও অন্যান্য ইনফেকশনের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জোরদার করে এই ভিটামিন সি।
অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কথা শুনেছেন না? শরীরে ফ্রি র্যাডিকেল জমার মাধ্যমে এর সূত্রপাত। আর সমাপ্তি? ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সারের মতো ঘাতকব্যাধিতে! ফ্রি র্যাডিকেল ধ্বংসের মাধ্যমে এগুলোর অঙ্কুরে বিনাশ ঘটায় ভিটামিন সি।
এছাড়াও, রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, অরুচিভাব দূর ও লিভারের সুরক্ষায় আমড়া খুব কাজের একটি ফল।
ভিটামিন সি’র আরেকটি বড় কাজ ত্বকে কোলাজেন তৈরি করা। তারুণ্য ধরে রাখতে আপনি যে দামি দামি কসমেটিক্স ব্যবহার করেন তা এই কোলাজেনের জন্যে। কারণ ত্বকে পর্যাপ্ত কোলাজেন থাকলে ত্বক থাকে টানটান, বাড়ে উজ্জ্বলতা। প্রচুর ভিটামিন সি থাকায় আমড়া এই কোলাজেনেরই সুলভ উৎস।
কমলার চেয়ে আমড়ায় ভিটামিন সি কম হলেও ফাইবার আমড়াতেই বেশি- প্রায় দ্বিগুণ!
ফাইবারকে বলা হয় Digestive Superhero! হজমক্ষমতা বাড়াতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে ডায়েটারি ফাইবার অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান।
তবে আমড়ার কদর আপনাকে করতেই হবে যদি হৃদরোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে চান।
পটাসিয়াম রক্তে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ফাইবারও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, তবে তা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে। দুটো উপাদানই পর্যাপ্ত আছে আমড়ায়।
অনেক পুষ্টিকর হলেও অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। বেশি খেলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
কিডনি স্টোনের অন্যতম কারণ অক্সালেট। এই অক্সালেট আছে আমড়ায়। তবে পরিমাণে খুব কম। তাই মাত্রাতিরিক্ত না খেলে সমস্যা নেই।
বাঙালি কুজিনে আমড়া-ডাল জনপ্রিয় একটি আইটেম। এছাড়াও আচার, মোরব্বা, জেলি, শরবৎ ইত্যাদি নানাভাবে আপনি আমড়া খেতে পারেন। তবে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর হলো কাঁচা আমড়া চিবিয়ে খাওয়া। অকালে দাঁত পড়া ও মাড়ি দুর্বল হওয়া প্রতিহত হবে যদি আপনি আমড়া ও অন্যান্য শক্ত ফল চিবিয়ে খান।
ত্বক ভালো রাখা থেকে শুরু করে রক্তস্বল্পতা দূর- ছোট্ট এই ফলটির গুণ বলে শেষ করা যাবে না। তাই পরের বার যখন বাজারে আমড়া দেখবেন, ‘সস্তা’ বলে এড়িয়ে যাবেন না!