• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

এখনো ফাঁকা সদরঘাট, রাত থেকে বাড়তে পারে ভিড়

sagar crime reporter / ১৪ জন দেখেছে
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

জাতীয়

এখনো ফাঁকা সদরঘাট, রাত থেকে বাড়তে পারে ভিড়

 

shaplanews.com

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৬

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এখনো ঈদের যাত্রীচাপ শুরু হয়নি, ছবি: জাগো নিউজ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি। তবে এখনো টার্মিনালজুড়ে তেমন যাত্রীচাপ দেখা যায়নি। দক্ষিণাঞ্চলগামী অধিকাংশ লঞ্চ শনিবার (২৩ মে) সকাল পর্যন্ত অনেকটাই ফাঁকা ছিল।

যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। শেষ অফিস দিবসের পর থেকেই ঘরমুখো মানুষের ঢল নামবে নদীপথে।

আজ শনিবার সকালে সরেজমিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ রুটের বিভিন্ন টিকিট কাউন্টারে তুলনামূলক কম ভিড় রয়েছে। লঞ্চঘাট এলাকায় যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণত যেরকম চাপ তৈরি হয়, তার খুব কম উপস্থিতি দেখা গেছে।

বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চের ভাড়া

তবে পুরো টার্মিনালজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি স্পষ্ট ছিল। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান, যাত্রীদের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং ঘাট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুর রুটের ঘাট এলাকায় পুলিশের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

এই প্রতিবেদক গতকাল শুক্রবার (২২ মে) রাতেও সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরে দেখেন। তখনও দক্ষিণাঞ্চলগামী অধিকাংশ লঞ্চে যাত্রী কম ছিল। তবে চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ রুটের লঞ্চগুলোতে কিছুটা চাপ লক্ষ্য করা যায়। অনেক যাত্রী পরিবার নিয়ে আগেভাগেই গ্রামের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন, যাতে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি এড়ানো যায়।

লঞ্চ টার্মিনালের প্রধান ফটকে প্রবেশের টিকিট পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা আশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতেও তেমন ভিড় ছিল না। আজ সকাল পর্যন্তও যাত্রীচাপ কম। তবে আমরা ধারণা করছি, আগামীকাল থেকে ভিড় বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাতের লঞ্চগুলোতে যাত্রী বেশি হবে।’

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এখনো যাত্রীচাপ শুরু হয়নি। স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারছেন যাত্রীরা, ছবি: জাগো নিউজ

চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ রুটে কিছুটা চাপ

সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুরগামী স্বর্ণদ্বীপ-৮ লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। লঞ্চটিতে পরিবার নিয়ে ওঠার সময় যাত্রী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ভিড় কম থাকায় স্বস্তিতে যাত্রা করতে পারছি। ঈদের আগে এমন ফাঁকা পরিবেশ সচরাচর দেখা যায় না। সাধারণত এই সময় ঘাটে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া যায় না।’

আরেক যাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, ‘ভেবেছিলাম অনেক ভোগান্তি হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো। টিকিট পেতেও সমস্যা হয়নি। পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে উঠতে পেরেছি।’

এদিকে ফারহান-৯ নামের একটি লঞ্চ বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ইলিশা-কালীগঞ্জ ঘাটের উদ্দেশে সদরঘাট ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। লঞ্চটির যাত্রী আব্দুল কাদের বলেন, ‘এখনো যাত্রী কম। তবে দুপুরের পর হয়তো ভিড় বাড়বে। ঈদের আগে শেষ দুই-তিন দিন সাধারণত সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে।’

আরেক যাত্রী রুবিনা আক্তার বলেন, ‘পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে উঠতে পেরেছি। ঈদের সময় এমন কম চাপ আগে খুব কম দেখেছি। যদি এমন পরিবেশ থাকে তাহলে যাত্রা অনেক সহজ হবে।’

 

ফারহান-৯ লঞ্চের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনো প্রত্যাশিত যাত্রী হয়নি। তবে রাতের ট্রিপগুলোতে চাপ বাড়বে বলে আশা করছি। ঈদের আগের দুই-একদিনে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যাবে।’

অপরদিকে বরিশালগামী বেশ কয়েকটি লঞ্চ ঘাট প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কেবিন ও ডেক, দুই জায়গাতেই যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। যদিও এসব লঞ্চ রাতে ছাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীপথের অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে যাত্রা করেন। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সদরঘাটে প্রকৃত চাপ শুরু হতে পারে।

লঞ্চের ডেকে বিছানা বিছিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন যাত্রীরা, ছবি: জাগো নিউজ

১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রীর জন্য প্রস্তুতি

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারেন। সেই চাপ সামাল দিতে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়মিত চলাচলকারী লঞ্চের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু লঞ্চও বিশেষ সার্ভিস হিসেবে চালানো হবে।

বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আরও বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ২১ মে থেকে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২৪ মে’র পর থেকেই যাত্রীচাপ পুরোপুরি বাড়বে বলে ধারণা করছি। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি লঞ্চের কাগজপত্র, লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা, নদীতে টহল

ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সদরঘাট ও আশপাশের নদীপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

র‍্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। ঘাট এলাকায় বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি নদীতেও টহল জোরদার করা হয়েছে।

মোবারক হোসেন বলেন, ‘গত ঈদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুনের পেছনে কোনো নৌকা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।’

তিনি জানান, সদরঘাট এলাকায় চার থেকে পাঁচটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। এছাড়া মোবাইল টিম ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করবে।

ফ্রি কুলি, ট্রলি ও হুইলচেয়ার সেবা

ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবারও বিভিন্ন সেবা চালু রেখেছে বিআইডব্লিউটিএ। প্রতিটি প্রবেশপথে হুইলচেয়ার রাখা হয়েছে। মালামাল বহনের জন্য রয়েছে ট্রলি সুবিধা। এছাড়া বয়স্ক যাত্রী ও অসুস্থদের সহায়তায় প্রশিক্ষিত ক্যাডেটও নিয়োজিত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কুলিদের হয়রানি বন্ধে। এ বিষয়ে মোবারক হোসেন বলেন, ‘১০ দিনের জন্য ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবী কুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা নীল জ্যাকেট পরে আছেন। যাত্রীরা বিনামূল্যে তাদের সেবা নিতে পারবেন। কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।’

হকার ও টানা-হেঁচড়া বন্ধে কড়াকড়ি

সদরঘাটের পন্টুন এলাকায় যাত্রী টানাটানি, অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা রোধে এবার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যদিও এখনো ঘাটের কিছু স্থানে হকারদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, ‘পন্টুন এলাকা সম্পূর্ণ ক্যানভাসার ও হকারমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ যাত্রীদের জোর করে লঞ্চে তুলতে চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, ছবি: shaplanews.com

বিকল্প ঘাট থেকেও চলবে লঞ্চ

সদরঘাটের ওপর চাপ কমাতে এবারও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, সদরঘাটের পাশাপাশি বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা থেকেও প্রতিদিন অতিরিক্ত চারটি করে লঞ্চ চলাচল করবে।

কর্তৃপক্ষের আশা, এতে সদরঘাটের যাত্রীচাপ কিছুটা কমবে এবং যাত্রীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করে স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবেন।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে কড়াকড়ি

ঈদ সামনে রেখে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নদীপথের ভাড়া নতুনভাবে সমন্বয় করা হয়েছে। কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ পয়সা এবং বেশি দূরত্বে ১৪ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা করা হয়েছে।

নতুন ভাড়া অনুযায়ী বরিশাল রুটে ডেক শ্রেণির জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯৭ টাকা, ভোলা রুটে ৩৯৮ টাকা, পটুয়াখালীতে ৫০৩ টাকা, ঝালকাঠিতে ৫১৩ টাকা এবং বরগুনা রুটে ৬৫৮ টাকা। চাঁদপুর রুটে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮২ টাকা।

আগেভাগেই কেবিন বুকিং

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস বা ট্রেনের মতো নদীপথে অগ্রিম টিকিট বিক্রির চাপ খুব বেশি দেখা যায় না। নিয়মিত যাত্রীরা সাধারণত পরিচিত লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগেই কেবিন বুকিং দিয়ে রাখেন।

সদরঘাটের একটি টিকিট কাউন্টারের কর্মী মো. রুবেল মিয়া বলেন, ‘বাস বা ট্রেনের মতো এখানে খুব বেশি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয় না। যারা নিয়মিত যাত্রী, তারা আগে থেকেই পরিচিত লঞ্চে যোগাযোগ করে কেবিন বুকিং দিয়ে রাখেন। ঈদের সময় মূল চাপটা পড়ে শেষ দুই-তিন দিনে।’

বরিশালগামী যাত্রী নাজমুল ইসলাম রনি বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর একই লঞ্চে যাই। তাই আগেই পরিচিত লোকের মাধ্যমে কেবিন ঠিক করে রাখি। এতে ঝামেলাও কম হয়।’

ভোলাগামী গৃহিণী শাহিনা আক্তার বলেন, ‘পরিবার নিয়ে যাত্রা করলে আগে থেকে কেবিন ঠিক করে রাখাটাই নিরাপদ। শেষ মুহূর্তে ভালো জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।’

প্রস্তুত লঞ্চ মালিকরাও

এ. খান-৭ লঞ্চের পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ঈদযাত্রা সামনে রেখে আমরা লঞ্চের সব ধরনের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। লঞ্চের ফিটনেস, লাইফ জ্যাকেট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সবকিছু পরীক্ষা করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার প্রতিনিধি মোহাম্মদ হান্নান খান বলেন, ‘ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে মালিকরা প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। প্রায় ১৮০টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০টি লঞ্চ চলাচল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

 

ঘাটজুড়ে কড়া নিরাপত্তা, খোলা কন্ট্রোল রুম

পুরো সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ে। টার্মিনালের প্রবেশপথ, পন্টুন এলাকা, টিকিট কাউন্টার ও বিভিন্ন লঞ্চঘাটজুড়ে পুলিশ সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জ ও চাঁদপুর রুটের লঞ্চঘাট এলাকায় বাড়তি নজরদারি লক্ষ্য করা যায়। যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

ঘাট এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক কন্ট্রোল রুম খোলা ছিল। এসব কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি যাত্রীদের তথ্যসেবা, জরুরি সহায়তা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে কিছু দূর পরপর পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নজরদারি করছেন। পন্টুন এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো, টিকিট কালোবাজারি, পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এছাড়া নদীপথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদের টহল কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে। ঘাট এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তি ও ব্যাগেজ তল্লাশিতেও সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের মূল যাত্রীচাপ শুরু হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে এবং ২৪ ঘণ্টা সমন্বিতভাবে বিভিন্ন বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে সদরঘাটসহ বিভিন্ন যাতায়াতকেন্দ্রে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমারদের ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।’

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও সদস্য মোতায়েন রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ