আমাদের দেশের বেশির ভাগ পুরুষ সেক্সুয়ালি হতাশাগ্রস্ত: অভিনেত্রী মাহি
সামিরা খান মাহি
অভিনেত্রী সামিরা খান মাহির নতুন নাটক ‘বকুল ফুল’ ইউটিউবে প্রকাশ পেয়েছে। কাজ করছেন নতুন ধারাবাহিকের। সম্প্রতি তাঁর কয়েকটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর ট্রলের শিকার হন, অনেকেই তাঁকে পর্নোতারকা মিয়া খলিফার সঙ্গে তুলনা করে কটাক্ষ করেন। পরে ফেসবুকে এর জবাবও দেন অভিনেত্রী। এসব নানা প্রসঙ্গে গতকাল দুপুরে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন মনজুর কাদের
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫,
এমন তুলনার ঘটনা জানার পরপরই আপনার প্রতিক্রিয়া কীভাবে প্রকাশ পায়?
সামিরা খান মাহি : যারা এই ধরনের সমালোচনা করে, এদের নিয়ে আর কিছু বলার নেই। আমি জানি না, এই সিগনেচারটা কে তৈরি করেছে? চশমা পরলেই আমাকে অন্য কারও মতো লাগতে হবে, এমন তো কথা না। আসলে আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের দেশের বেশির ভাগ পুরুষ সেক্সুয়ালি হতাশাগ্রস্ত। হতাশাগ্রস্ত বলেই রিডিংগ্লাস পরা এ রকম ছবি দেখে তাদের কাছে মনে হয়েছে, এটা ওই রকম। এ ছাড়া আমি কোনো কারণ খুঁজে পাই না। একজন আর্টিস্ট অনেক ধরনের ছবি আপলোড করতে পারে। সেটা নিয়ে মানুষ নানান মন্তব্য করতেই পারে। কিন্তু এই ধরনের স্টুপিডিটি, অসভ্যতা তো মানা যায় না। এর আগে আমার বর্ণ নিয়ে, পরনের কাপড় নিয়েও অকারণ সমালোচনা, বিতর্ক তৈরি করল! এবার একটা গ্লাস, রিডিং গ্লাস! সেক্সুয়ালি হতাশাগ্রস্ত মানুষ ছাড়া এই ধরনের চিন্তা সুস্থ মানুষের মাথায় আসার কথা নয়। ব্যাপারটা হচ্ছে, আমি তো আসলে ওইটা বুঝাইনি—যেমন অনেকে বলছে, মিয়া খলিফা, মিয়া খলিফা। সে অন্য রকম, তার একটা পেশা আছে, তার জীবন আলাদা—সে জীবনে সে কী করবে, না করবে, এটা একান্ত তার সিদ্ধান্ত। সে আবার থাকে অন্য একটা দেশে। তাকে নিয়ে তো আমাদের মাথাব্যথা হওয়ার কিছু নেই। সে কোনোভাবেই আমাদের কাছের কেউ না। আমাকে ওর সঙ্গে তুলনা করছে, সেটা সমস্যা না, কিন্তু তারা তুলনা করছে নেগেটিভ উপায়ে, এটাতেই আমার আপত্তি।
একজন আর্টিস্ট অনেক ধরনের ছবি আপলোড করতে পারে। সেটা নিয়ে মানুষ নিয়ে মন্তব্য করতেই পারে। কিন্তু এই ধরনের স্টুপিডিটি, অসভ্যতা তো মানা যায় না। এর আগে আমার বর্ণ নিয়ে, পরনের কাপড় নিয়েও অকারণ সমালোচনা, বিতর্ক তৈরি করল!
প্রথম আলো: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য পড়লে কি উত্তর দেন?
সামিরা খান মাহি : আমি কখনোই উত্তর দিই না। কিন্তু এবার বিষয়টা এত হাস্যকর ও বেশি বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে, তাই ভাবলাম কথা বলি।
সামিরা খান মাহি
সামিরা খান মাহিছবি : সামিরা মাহির সৌজন্যে
অনেকে এমনও বলেন, ট্রলে প্রচারণা বাড়ে, ক্যারিয়ারে সুবিধা দেয়…
সামিরা খান মাহি : আমি কখনোই এ ধরনের নেতিবাচক, সস্তা ও অরুচিকর প্রচারণা চাই না। কারণ ছাড়াই যারা উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে বেড়ায়, তারা পুরোপুরি অসুস্থ, তাদের সঠিক চিকিৎসা দরকার।
আমি জানি না তারা এসব করে কী পায়, কেন তারা এসব করে! এটা ভুল, অন্যায় এবং অপরাধ। আর নারীদের তো যুগের পর যুগ দাবায়ে রাখার চেষ্টা চলে।
সামিরা খান মাহি
প্রথম আলো : আপনি কি মনে করেন, গ্ল্যামারাস ইমেজের জন্য নারী শিল্পীরা বেশি সমালোচনার শিকার হন?
সামিরা খান মাহি : এটা যে শুধু আমার সঙ্গে হচ্ছে তা কিন্তু না। এটাও ঠিক, পুরুষ শিল্পীদের তুলনায় নারীরা বেশি বুলিংয়ের শিকার হয়। কোনো মেয়েমানুষ সেভাবে পাবেন না, যারা পুরুষদের মতো নোংরা ভাষায় মন্তব্য করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষেরাই বাজে সব মন্তব্য করে। তারা সব সময় নারীদের নেতিবাচক ভাবে। তারা আসলে হতাশাগ্রস্ত পুরুষ, আমি জানি না তারা এসব করে কী পায়, কেন তারা এসব করে! এটা ভুল, অন্যায় এবং অপরাধ। আর নারীদের তো যুগের পর যুগ দাবায়ে রাখার চেষ্টা চলে। এটা তো খুব স্বাভাবিক, ছেলেদের নিয়ে যা কথা হবে, মেয়েদের নিয়ে হবে না। স্বামী–স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়ে গেছে, কোনো ধরনের কিছু জানা ছাড়াই শুরুতেই বলে বসবে, স্ত্রীর দোষ ছিল। আমাদের সামাজিক কাঠামোটাই এ রকম। বছরের পর বছর এসব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সামিরা খান মাহি
সামিরা খান মাহি ছবি : সামিরা মাহির সৌজন্যে
]এসব কি আপনাকে হতাশ করে?
সামিরা খান মাহি : অনেক সময় অবচেতন মনে উড়িয়ে দিই। কিন্তু কিছু না কিছু প্রায় সময় থেকেই যায়। এই ধরনের নোংরা কথা বলা মানুষদের প্রতিরোধে আমি বা আমরা কীই–বা করতে পারি। একবার একটা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ডিফারেন্ট চুল পরে গিয়েছিলাম, সেটাও নিয়ে তুমুল বিতর্কের শিকার হয়েছি। তাই যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।
আমি কখনোই এ ধরনের নেতিবাচক, সস্তা ও অরুচিকর প্রচারণা চাই না। কারণ ছাড়াই যারা উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে বেড়ায়, তারা পুরোপুরি অসুস্থ, তাদের সঠিক চিকিৎসা দরকার।
সামিরা খান মাহি