ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেছেন, যেসব গাড়ির ফিটনেস অনুমোদন দেওয়া আছে কিন্তু বাস্তবিক অর্থে অবস্থা খুব খারাপ, আমরা যেগুলোকে লক্কড়-ঝক্কড় বলি। ঢাকায় এসব গাড়ি চলতে দেবো না।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
পূর্বাচলে বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের কথা উল্লেখ করে মো. আনিছুর রহমান বলেন, পূর্বাচলে যে ডিপোর কার্যক্রম আমরা আংশিকভাবে শুরু করেছি, ওখানে ১০ একর জমি নেওয়া আছে। ওটার তিন ভাগের এক ভাগ আমরা করতে পেরেছি। এর মধ্যে এখন আমরা আশা করছি ১৫০টার মতো বাস ধরবে। আর পুরোপুরি কমপ্লিট হলে সেখানে বাস ধরবে ৬০০টি।
মহাখালী বাস টার্মিনালের অপেক্ষারত বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে বাসগুলো এখানে ১০-১২ ঘণ্টা অথবা দুইদিন, চারদিন অপেক্ষা করতো, সেসব বাস এখন পূর্বাচলে চলে যাবে। ইভেন টার্মিনালের ভেতরে বাসগুলো মেরামত হতো। সিট চেঞ্জ হতো, রং করা হতো। এমন কোনো কাজ নেই যেটা করা হতো না। এই কাজকর্মগুলো এখন থেকে পূর্বাচলে তিন নম্বর সেক্টরে হবে।
আনিছুর রহমান বলেন, সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে আমরা পরিবহন মালিক শ্রমিকের ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এখন আমরা অবশ্যই চাইবো যে তারা পূর্বাচলে যাবে। আমরা এটাকে বাস্তবায়ন করার জন্য মাঠে থাকবো।
কবে নাগাদ পূর্বাচল ডিপো পুরোপুরি চালু করতে পারবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব রাজউক নিয়েছে। রাজউক আমাদের সহযোগিতা করছে। আমার বিশ্বাস ৬০০ বাস রাখার যে সক্ষমতা এটা পরিপূর্ণ করতে কমপক্ষে তিন মাস লাগবে।
লক্কড়-ঝক্কড় গণপরিবহনগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন,
আমরা তো দিনের পর দিন মামলায় দেই। আপনি দেখবেন যে আমার কাছে যে পরিসংখ্যান আছে সেটা হচ্ছে, আমরা গত জুন মাসে ১১৯টা, পরের মাসে (জুলাই) ১৭১টা এবং আজ থেকে আবার অভিযান শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে আমরা যেসব গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে কিন্তু গাড়িগুলো বাস্তবিক অর্থে অবস্থা ভালো না। সেই গাড়িগুলো ধরে রাখার মতো আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এজন্য আমরা যেটা করছি এই গাড়িগুলোকে ধরে সরাসরি পাঠিয়ে দিচ্ছি সুনির্দিষ্ট একটা গ্যারেজে। ওটা বাস মালিকের ইচ্ছা, মালিক কোন গ্যারেজে নিবে তার ইচ্ছা। কিন্তু আমরা ওটার ছবি তুলে রাখছি। গাড়িগুলো ঠিকঠাক হলে আমাদের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স নেওয়ার পরে সে রাস্তায় নামছে। এভাবে এরই মধ্যে আমরা আনুমানিক ৪০টা গাড়ি যেগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ, যেগুলো ইকোনমিক লাইফ শেষ, সেগুলো আমরা বিআরটিএর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এছাড়া ১৮টি গাড়ি অলরেডি বিআরটিএর স্ক্র্যাপ নীতিমালায় স্ক্র্যাপ হয়ে গেছে। যেসব গাড়ির ইকোনমিক লাইফ শেষ হয়ে গিয়েছে, এসব গাড়ি যদি রাস্তায় পাওয়া যায় এগুলোকে সোজা ধরে আমরা বিআরটিএর কাছে দিয়ে দেবো এবং বিআরটিএ স্ক্যাপ নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।