পটুয়াখালীর পায়রা নদীর পাড়ে ছোট্ট গ্রাম লেবুখালী। সেখানে রহিমা প্রতিদিন ভোরে উঠে তার উঠানের জুঁই ফুল গাছটায় পানি দেয়।
তার স্বামী জসিম ১৫ দিন ধরে নদীতে যেতে পারছে না। মা ইলিশের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ঘরে চাল বাড়ন্ত।
এক সকালে নৌ পুলিশের বাঁশির শব্দে রহিমা ছুটে যায় ঘাটে। দেখে তার স্বামীকে না, পাশের গ্রামের দুই জেলেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। রহিমার বুক কেঁপে ওঠে।
সে দৌড়ে বাড়ি ফিরে তার জমানো জুঁই ফুলের মালা গুলো নিয়ে বাজারে যায়। সারাদিন মালা বিক্রি করে ৩০০ টাকা পায়। সেই টাকা দিয়ে চাল, ডাল আর একটা ছোট ইলিশের পুতুল কিনে আনে তার ছোট মেয়ের জন্য।
রাতে স্বামীকে বলে, “দেখো, নিষেধাজ্ঞা মানলেও আল্লাহ রিজিক দেয়। এই কটা দিন মালা বেচেই চলবে। মা ইলিশ ডিম পাড়ুক, নদী ভরে উঠুক, তারপর তো আমাদেরই সুদিন।”
জসিম জানালা দিয়ে পায়রা নদীর দিকে তাকায়। নিষেধাজ্ঞার রাতে নদীটা আজ অনেক শান্ত। যেন মা ইলিশেরা নিরাপদে ডিম ছাড়ছে। তার মনে হয়, এই শান্ত নদীই আগামী বছর তাদের ঘরে হাজার ইলিশ ফিরিয়ে দেবে।
রহিমার খোঁপার জুঁই ফুলের ঘ্রাণে সারা ঘর ভরে যায়।
*শিক্ষা:* সাময়িক কষ্ট মেনে নিলে প্রকৃতি আমাদের দশগুণ ফিরিয়ে দেয়।
—
*শাপলানিউজ গল্প বিভাগ*
লেখা: শাপলানিউজ.কম