ঢাকা ইপিজেডে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর দাবি, ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে আনসার সদস্যরা নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সেখানে ছিলেন। অভিযানের সঙ্গে চাঁদা আদায়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে আশুলিয়ায় ঢাকা ইপিজেডের পুরোনো জোনের কমার্শিয়াল ভবনের সামনে অবৈধভাবে স্থাপিত অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে ঢাকা ইপিজেডে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য এবং বেপজা সিকিউরিটি গার্ড সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন। ইপিজেড এলাকার নির্ধারিত স্থান, ফুটপাত ও চলাচলের পথ দখলমুক্ত রাখা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করাই ছিল অভিযানের উদ্দেশ্য।
অভিযান চলাকালে হকারদের অস্থায়ী দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলে তারা তা সরিয়ে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হকারদের পক্ষ থেকে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের বক্তব্য ও মাঠপর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রমটি ছিল ঢাকা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত হকার উচ্ছেদ অভিযান। আনসার সদস্যরা সেখানে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযানের সঙ্গে চাঁদা আদায়ের কোনো কার্যক্রমের সম্পর্ক ছিল না।
বাহিনীটির দাবি, একই সময়ে কোনো আনসার সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। অভিযান সকাল ৯টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে শেষ হয়। এ সময় সৃষ্ট পরিস্থিতি পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আনসার সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ যথাযথভাবে যাচাই করে তা পাঠকের সামনে উপস্থাপনের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।