মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলা ও জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলার মাধ্যমে দুই দেশের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে যায়। এরপর টানা ১৩ দিন হামলা-পাল্টা হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিলেন।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা আজ রোববার (২৬ জুলাই) মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা।
ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মোতায়েন করা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় পৌঁছে গেছে। ওই অঞ্চলে অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষের পথে। এই অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন।
সূত্র মতে, ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে গত শুক্রবার বৈঠক করেন। বৈঠকের পর তিনি হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেন।
অ্যাক্সিওস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ট্রাম্প এখনো তার এই সিদ্ধান্তের সময়সীমার ব্যাপারে কিছু জানাননি। অর্থাৎ, এক-দুই দিন পর আবার হামলা শুরু হতে পারে। আবার দীর্ঘ সময় ধরেও হামলা বন্ধ থাকতে পারে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে দুটি বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। প্রথমত, চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানে যাওয়ার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে এতে। পাশাপাশি, এটাও প্রমাণ হয়েছে যে, কার্যকারিতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে চলমান সামরিক হামলা—এই হামলার কলেবর না বাড়ানো পর্যন্ত এর কার্যকারিতাও একই পর্যায়ে থাকবে।
তবে এখন সাময়িক বিরতি দিয়ে পরবর্তীতে আরও বড় আকারে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, এমন ধারণা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।








