• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

sagar crime reporter / ২৩ জন দেখেছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা

 

শাপলানিউজ.কম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬,

 

রাজধানীর চিরচেনা যানজটের ভোগান্তি কমাতে এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকার ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরা। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৭৬টি মোড়ে এই আধুনিক সিস্টেম পুরোদমে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন-সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ডিএমপির পক্ষ থেকে এই মহাপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিএমপির সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এই বাস্তবায়ন কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে। প্রধান সড়কগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করতে ধাপে ধাপে এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বাড়তি কোনো আর্থিক চাপ পড়ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুলিশের নিজস্ব তহবিল থেকেই এই উদ্যোগের খরচ মেটানো সম্ভব হবে, ফলে অতিরিক্ত কোনো বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজন নেই।

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এই সিগন্যাল বাতিগুলো তৈরি করেছে। এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশ ম্যানুয়ালিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

চলতি বছরের মে মাস থেকে এই ট্রাফিক পয়েন্টগুলোতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে ডিএমপি। এই এআইভিত্তিক ক্যামেরায় বিশেষ সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে, যা সড়কে কোনো গাড়ি ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ লঙ্ঘন করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে পারবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) পুরো কার্যক্রমটি সমন্বয় করছে। সিগন্যাল স্থাপনের প্রকল্পে অর্থায়ন করছে দুই সিটি করপোরেশন এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

ঢাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল আধুনিকায়নের চেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ডিটিসিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকে ঢাকায় প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল বসেছিল, যা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় অকেজো হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণে ৬৮টি স্থানে এবং ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আরও ৯১টি ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল বাতি বসানো হলেও তার কোনোটিই শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা যায়নি। এমনকি ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জাইকার ঋণে চারটি মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল বসানো হলেও কিছুদিন পর সেগুলোও অচল হয়ে পড়ে।

অতীতের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বর্তমান উদ্যোগটি নগরবাসীর মনে স্বস্তির বার্তা দিলেও, এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই এখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকা

রাজধানী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ