• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

সংরক্ষণের অভাবে নওগাঁয় মৌসুমেই নষ্ট হয় ৩০০ কোটি টাকার আম

sagar crime reporter / ৩৪ জন দেখেছে
আপডেট : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

সংরক্ষণের অভাবে নওগাঁয় মৌসুমেই নষ্ট হয় ৩০০ কোটি টাকার আম

 

shaplanews.com

নওগাঁর আমবাগানগুলোতে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে আম। বাগানে শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষিরা। সব ধরনের প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। চলতি জুনের মাঝামাঝি কিংবা শেষ সপ্তাহের দিকে বাজারে আসবে এই অঞ্চলের সর্বাধিক উৎপাদিত ও জনপ্রিয় জাত ‘আম্রপালি’। তবে দেশের সিংহভাগ আম এই জেলায় উৎপাদিত হলেও, আমকেন্দ্রিক বড় কোনো প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বা হিমাগার গড়ে না ওঠায় চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যা থেকে এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর জেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন আম। সেই তুলনায় এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বেশ খানিকটা বেশি।

আমচাষিদের অভিযোগ, প্রতিবছর উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও বাজারে সেই অনুপাতে আমের কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না।

সাপাহার উপজেলার কুচকুরিলিয়া গ্রামের আমচাষি রেদওয়ানুর রহমান মুন জানান, আম্রপালি আম পাকা শুরু হলে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। কৃষক চাইলেও তখন আম গাছে ধরে রাখতে পারেন না। বাজারে যখন আমের আমদানি বা সরবরাহ বেড়ে যায়, তখন বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেন। ফলে সাধারণ কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়েন।

পোরশা উপজেলার আমইড় গ্রামের আমচাষি মতিউর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া শুরু থেকেই আম চাষের অনুকূলে ছিল না। যার কারণে বাগানে আমের পরিমাণ কিছুটা কম। গত বছর মানভেদে আম্রপালি আম মণ প্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। এবার ৩ হাজার টাকার নিচে বিক্রি হলে উৎপাদন খরচই তোলা সম্ভব হবে না। তাদের দাবি, একটি ম্যাংগো প্রসেসিং জোন বা শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকলে কৃষকরা এই জিম্মিদশা থেকে রক্ষা পেতেন।

সাপাহার উপজেলা আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত জানান, সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে সাপাহারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার ব্যবসায়ী এখানে আম কেনাবেচা করতে আসেন। এই হাটে মৌসুমে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার আম লেনদেন হয়। কিন্তু বড় কোনো সংরক্ষণাগার না থাকায় উৎপাদিত আমের প্রায় ২০ শতাংশই নষ্ট হয়ে যায়, যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা। এখানে দ্রুত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কৃষক ও ব্যবসায়ী- উভয় পক্ষই লাভবান হতেন।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মন্ডল বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে ভারী শিল্প স্থাপনের বিষয়ে বিভিন্ন সমন্বয় সভায় নিয়মিত প্রস্তাবনা তুলে ধরা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে সাপাহার অঞ্চলে একটি কুলিং হাউস (হিমাগার) এবং প্যাকিং হাউস নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ