আপডেট: ৩০ মে ২০২৬,
ঈদুল আজহার ছুটি, যানবাহনের চাপ কমে যাওয়া এবং সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানী ঢাকার বায়ুর মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। কয়েকদিন আগেও দূষণের শীর্ষ তালিকায় থাকা ঢাকা বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে। তবে টানা দুই দিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দূষণের মাত্রা কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (৩০ মে) সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ৮২। এ স্কোরের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১২৭টি প্রধান শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৯তম। একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী এই স্কোর ‘মাঝারি’ বা সহনীয় পর্যায়ের বায়ুমান নির্দেশ করে।
এদিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল রিয়াদ, যার একিউআই স্কোর ২১৭। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কিনসাসা (১৮৯) এবং তৃতীয় স্থানে ছিল সান্তিয়াগো (১৫০)। এছাড়া চতুর্থ স্থানে থাকা জাকার্তা-এর স্কোর ছিল ১৪৫ এবং পঞ্চম স্থানে থাকা কলকাতা-এর স্কোর ছিল ১৪২।
পরিবেশবিদদের মতে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজও সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বাতাসে ধূলিকণা ও ক্ষতিকর বস্তুকণার পরিমাণ কমেছে। এর সঙ্গে কয়েক দফা বৃষ্টিপাত যুক্ত হওয়ায় বাতাসে ভাসমান দূষণকারী কণা ধুয়ে গেছে এবং বায়ুর গুণগত মান উন্নত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃষ্টিপাত প্রাকৃতিকভাবে বায়ুদূষণ কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। বৃষ্টির পানি বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা, ধোঁয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মাটিতে নামিয়ে আনে। ফলে বৃষ্টির পর সাধারণত বায়ুমান উন্নত হয়। তবে কয়েকদিন বৃষ্টি না হলে আবারও ধীরে ধীরে দূষণের মাত্রা বাড়তে শুরু করে।
একিউআই সূচক অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যদিও বর্তমানে ঢাকার বায়ুর মান তুলনামূলক ভালো অবস্থায় রয়েছে, তবুও শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ মাঝারি মাত্রার দূষণও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে বায়ুর মান উন্নত হলেও দীর্ঘমেয়াদে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। যানবাহনের কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে ধুলা প্রতিরোধ, শিল্পকারখানার নির্গমন কমানো এবং নগর পরিকল্পনায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাড়ানো না গেলে রাজধানীর বায়ুমান আবারও দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
তাদের মতে, ঈদের ছুটি ও বৃষ্টির কারণে ঢাকাবাসী আপাতত কিছুটা স্বস্তি পেলেও টেকসই সমাধানের জন্য বছরজুড়ে সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।