উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে নতুন করে জল বাড়তে শুরু করেছে। ফলে নদীর অভ্যন্তরীণ নিচু চরাঞ্চলগুলো ধীরে ধীরে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় নতুন করে আরও ১৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। একই সময়ে কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে যমুনা নদীতে এক দিকে যেমন পানি বাড়ছে, অন্য দিকে আবার কিছু কিছু পয়েন্টে কমছে। তবে গত ১৭ মে থেকে যমুনা নদীতে ধারাবাহিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ মে ৫ সেন্টিমিটার, ১৮ মে ৬ সেন্টিমিটার, ১৯ মে ২৭ সেন্টিমিটার, ২০ মে ১০ সেন্টিমিটার, ২৩ মে ২১ সেন্টিমিটার, ২৪ মে ২৮ সেন্টিমিটার, ২৫ মে ২৩ সেন্টিমিটার, ২৬ মে ২৬ সেন্টিমিটার এবং আজ ২৭ মে আরও ১৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন নদী পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে বলেন, যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ডপয়েন্ট ও কাজীপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে পানি বাড়তে শুরু করেছে। মূলত জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস হলো মূল বর্ষা মৌসুম। তাই এখন যমুনা নদীতে পানি বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। তিনি আরও জানান, পানি দ্রুত বাড়লেও তা এখনো বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় বিপদসীমার ৩৩৩ সেন্টিমিটার এবং মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ৩৮৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এখনই বড় কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই।
তবে চরাঞ্চলের কৃষকরা জানিয়েছেন, পানি বাড়ার কারণে নদীর বুকে জেগে ওঠা নিচু জমি ও ঘাসের খেত তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলের গৃহপালিত গবাদিপশুর খাদ্য সংকট ও যাতায়াতে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পুরো নদী পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে।








