বিশ্ববাজারে বড় দরপতনের পর কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে স্বর্ণের দাম। মূলত বিশ্বজুড়ে বন্ড মার্কেটে ধস ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণ কেনা বাড়িয়ে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সোমবার (১৮ মে) স্পট গোল্ড প্রতি আউন্স চার হাজার ৫৩৯.৪৮ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা সেশনের শুরুতে গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছিল। অন্যদিকে, জুনে ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৫৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। খবর রয়টার্সের।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড (মুনাফা) গত বছরের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বাড়তে যাচ্ছে। যেহেতু স্বর্ণের বিনিয়োগকারীদের সরাসরি কোনো সুদ দেয় না, তাই সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের দামের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫০ শতাংশ।
স্বর্ণের এই দরপতন ও স্বল্পমেয়াদি চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের গড় মূল্যের পূর্বাভাস প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার ৭০৮ ডলার থেকে কমিয়ে পাঁচ হাজার ২৪৩ ডলারে নামিয়েছে। ব্যাংকটির মতে, স্বর্ণ এখন একটি অনিশ্চিত বৃত্তে আটকে আছে, যা আপাতত প্রতি আউন্স চার হাজার ৩৪০ ডলার থেকে চার হাজার ৭৩০ ডলারের মুভিং অ্যাভারেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপার দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৫.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে এক হাজার ৯৭০.৭৪ ডলার ও প্যালাডিয়ামের দাম ১.১ শতাংশ কমে এক হাজার ৩৯৬.৭৪ ডলারে নেমেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় আগুন লাগার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।








