• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দাম কমেছে, ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে নেমেছে

sagar crime reporter / ৫৩ জন দেখেছে
আপডেট : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দাম কমেছে, ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে নেমেছে

 

shaplanews.com

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শর্ত সাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে—এ খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে এবং শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান হয়েছে। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে আজ বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়, যদিও যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির তুলনায় তা এখনো বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৭০ ডলার।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে উঠে যায়। এরপর অবশ্য তেলের দাম কিছুটা কমে যায়।

এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

ওয়াল স্ট্রিটেও ইতিবাচক সূচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফিউচারস বা আগাম লেনদেনে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আজ বুধবার বাজার খুললে ওয়াল স্ট্রিটে সূচকের উত্থান হবে। ফিউচারস চুক্তি হলো ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত দামে সম্পদ কেনাবেচার একটি চুক্তি। যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজারের এই ফিউচারস লেনদেন থেকে বাজার খোলার আগেই বোঝা যায়, সেদিন বাজারটা কেমন যাবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা স্থগিত রাখতে রাজি…তবে শর্ত হলো, ইরানকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইডিটি) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন, যুদ্ধবিরতি না হলে ‘আজ রাতেই পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, ‘ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে’ তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সংঘাত আরও বাড়ালে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে—ট্রাম্প এই ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলফাসেন্সের জ্যাভিয়ার স্মিথ বলেন, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো হবে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল কেভোনিক বলেন, যুদ্ধবিরতির সুযোগে হরমুজ প্রণালির কাছে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসবে। তবে স্থায়ী শান্তিচুক্তির নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

এ ছাড়া অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির কারণে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এশিয়ার দেশগুলোর ক্ষতি বেশি

ইরান যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো। কেননা এ অঞ্চলের দেশগুলোই উপসাগরীয় জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল। জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় গত কিছুদিনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও কোম্পানি নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

ফিলিপাইনের কথাই বলা যায়। দেশটির জ্বালানি আমদানির ৯৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ বন্ধের পর প্রথম দেশ হিসেবে গত ২৪ মার্চ তারা জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। দেশটিতে পেট্রলের দাম দ্বিগুণের বেশি হয়ে গিয়েছিল।

অন্যদিকে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এশিয়া অঞ্চলের অনেক বিমান সংস্থা ভাড়া বাড়িয়েছে; সেই সঙ্গে অনেক উড়ান বাতিল হয়েছে।

জাপানের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমিকসের গবেষক ইচিরো কুতানি বলেন, উন্নয়নশীল এশীয় দেশগুলোর অনেকেরই নিজস্ব পরিশোধনাগার বা পর্যাপ্ত তেল মজুত নেই। ফলে তেলের দামের অভিঘাত তাদের গায়েই বেশি লেগেছে।

ইচিরো কুতোনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি এশিয়ার জন্য স্বস্তির খবর। এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে তেলের দাম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে, তবে সময় লাগবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ