• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

দিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টে যাচ্ছে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি?

sagar crime reporter / ১৪৭ জন দেখেছে
আপডেট : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬

দিয়েগো গার্সিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টে যাচ্ছে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি?

shaplanews.com
ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ইরান সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়াগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারেনি। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি ইরানি ভূখণ্ড থেকে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই উৎক্ষেপণ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তেহরানের কাছে পূর্বের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে পেন্টাগন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নকালেই ব্যর্থ হয় এবং অন্যটিকে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা) দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে ইন্টারসেপ্টরটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটিকে আঘাত করতে পেরেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ভারত মহাসাগরে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়া হলো সেই দুটি ঘাঁটির একটি, যা ব্রিটেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ তৎপরতার জন্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে। মার্কিন বাহিনী এই ঘাঁটিতে বোমারু বিমান এবং অন্যান্য সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে। এটি এশিয়ায় মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যা আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন বিমান হামলার সময়ও মূল হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

ব্রিটেন ১৯৬০-এর দশক থেকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ নিজেদের দখলে রাখলেও সম্প্রতি তা মরিশাসের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে দ্বীপপুঞ্জের বৃহত্তম দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত ঘাঁটিটির লিজ বা ইজারা ব্রিটেন নিজের কাছেই রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দ্বীপ হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

এদিকে, কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনে দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের প্রভাষক মুহানাদ সেলুম বলেছেন, ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে সেলুম বলেন, ‘দিয়াগো গার্সিয়াতে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অর্থ হলো ইরানের কাছে চার হাজার কিলোমিটার (২,৪৯০ মাইল) বা তার বেশি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—যা এর আগে কখনো প্রকাশ পায়নি। এর আগের সমস্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটারের (১,২৪০ মাইল) মধ্যে সীমাবদ্ধ।’

মুহানাদ সেলুম আরও বলেন, ‘যদি আপনি এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অভিমুখ ঘুরিয়ে দেন, তবে সেগুলো অনায়াসেই লন্ডন পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। সুতরাং এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের যৌক্তিকতার হিসাবই বদলে দিচ্ছে না, বরং যুদ্ধে যোগ দিতে অনিচ্ছুক লন্ডন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সেলুমের মতে, ইরানের কাছে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) থাকাটাও অসম্ভব নয় যা এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও আঘাত হানতে পারে, কারণ তারা তাদের মহাকাশ কর্মসূচির মাধ্যমে এরই মধ্যে এর পরীক্ষা চালিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ