• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

ঢাকা এখন রিকশার শহর!

sagar crime reporter / ৪৫ জন দেখেছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

উত্তরায় চালকদের নজিরবিহীন তাণ্ডব

ঢাকা এখন রিকশার শহর!

 

শাপলানিউজ.কম

 ১৭ মার্চ ২০২৬,

 

তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায় ব্যাটারি রিকশা চালকদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ছোট্ট এক ঘটনায় গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে উসকে দিয়ে স্কয়ার ভবনে হামলা চালানো হয় এবং সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কেট কর্তৃপক্ষ।

ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের এমন তাণ্ডবের ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বনানীতে সড়ক অবরোধ করে তারা একইরকম ঘটনা ঘটিয়েছিল। তাদের ধ্বংসযজ্ঞে বিপুল পরিমান ক্ষয়ক্ষতিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নাজেহাল হয়েছিল। হাসিনার আমলে চালু হলেও সে সময় মহাসড়ক এবং রাজধানীতে চলাচল ছিল নিষিদ্ধ ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা। ধীরে ধীরে সেগুলো মফস্বল এলাকায় চলতে চলতে এক পর্যায়ে মহাসড়কেও উঠে যায়। হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় একসময় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আইনণ্ডশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় রাজধানীতে অবাধে প্রবেশ করে। বিশেষ করে রাজধানীর ভিআইপি সড়কেও চলা শুরু করলো ব্যাটারি রিকশা। ৫/৬ লাখ থেকে বাড়তে বাড়তে এখন এগুলোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখের উপরে। একটা রাজধানী শহরে এতো বেশি সংখ্যক রিকশা পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো শুধু যানজট বা দুর্ঘটনাই সৃষ্টি করে না, নষ্ট করছে রাজধানীর সৌন্দর্য। এক নজরে দেখলেই দরিদ্রতার একটা ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তাগণ অথবা বিদেশি কোনো পর্যটকদল ঢাকায় হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে নেমেই বুঝতে পারেন এদেশের প্রকৃত অবস্থা কী? দাতাদের সাথে বিভিন্ন আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকেও ইতোপূর্বে এ বিষয়টা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এমনকি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাস্তা বন্ধ না করে ভিআইপি প্রটোকল ছাড়াই যানজটের মধ্যে আটেকে থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। একজন সিএনজি অটোরিকশা চালকের প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী নিজেও তো যানজটে বসে থাকছেন। ব্যাটারি রিকশার জটলা তার গাড়ির সামনেণ্ডপেছনে দেখছেন। কিন্তু তিনি কেন এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন না। এটার একটা সমাধান দরকার। তা না হলে মানুষ বিরক্ত হয়ে প্রশংসার বদলে একদিন নিন্দা করবে।

উত্তরার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ণ্ডপ্রশ্রয়ে উত্তরা এলাকায় অটোরিকশার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব চালকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে অটোরিকশা চালকরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। একই অভিযোগ রাজধানীর সবগুলো এলাকাতেই। এখন রাজধানীতে প্রধান যানবাহন বলতে ব্যাটারি রিকশার নামই বুঝায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বৃহত্তর উত্তরা এলাকায় বর্তমানে লক্ষাধিক অটোরিকশা চলাচল করছে। লাইসেন্সবিহীন ও বিশৃঙ্খলভাবে চলা ব্যাটারিচালিত এসব অটোরিকশা পুরো উত্তরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। তাদের কারণে বিমানবন্দর মহাসড়ক ও বিভিন্ন সেক্টরে প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে চাকরিজীবীদের প্রতিনিয়ত কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলণ্ডকলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজনৈতিক আশ্রয়ে এসব অটোরিকশার বিস্তারের ফলে চালকরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে মব তৈরি করে যাত্রীদের হয়রানি ও নাজেহাল করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলাকায় মামলা থাকায় স্বৈরাচারি হাসিনার দলীয় নেতাদের বেশিরভাগই ঢাকায় পালিয়ে এসে জীবিকা নির্বাহ শুরু করে ব্যাটারি রিকশা চালিয়ে। তাদের না আছে অভিজ্ঞতা না আছে কোনো পরিচয়। ভুক্তভোগিদের মতে, ঢাকায় রিকশা চালানোর অনুমতি দেয়ার আগে কমপক্ষে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা দরকার ছিল। শুধু তাই নয়, এরা দলীয় পরিচয় গোপন করে নিজেরা নিজেরা সংঘবদ্ধ। কেউ কোনো ঝামেলায় পড়লে সাথে সাথে তারা সবাই জেনে যায়। এরপর পরিকল্পতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। উত্তরার ঘটনা তারই প্রতিফলন।

উত্তরার ঘটনা অনুসন্ধান করে জানা গেছে, গত রোববার রাত সাড়ে ১১টার পর কয়েক দফা হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা স্কয়ার ভবনের দু পাশের কাঁচ, দরজাণ্ডজানালা ও দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং লুটপাট চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা এতোটাই বেপরোয়া ছিল যে, তারা প্রশাসনের কোনো নির্দেশই মানতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই গভীর রাত পর্যন্ত মার্কেটজুড়ে তাণ্ডব চালাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কেট কর্তৃপক্ষের কয়েকজন জানান, অটোরিকশা চালকদের হামলায় দোকানদারদের প্রায় কোটি টাকার মালামাল লুটপাট ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা বলেন, ভবনের এক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে এক রিকশাচালকের কথা কাটাকাটি থেকেই মূলত উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, ঘটনার রাতেই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুরো ভবন ঘুরে দেখেন। তারা জানান, ভবনের প্রতিটি অংশ তল্লাশি করেও কোথাও কোনো লাশ পাওয়া যায়নি। তাদের ভাষ্য, যেখানে কাউকে হত্যা করা হয়নি সেখানে লাশ থাকার প্রশ্নই আসে না। তারা অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা মূলত লুটপাটের উদ্দেশ্যে ঘটনাটি সাজিয়েছে। হামলাকারীরা ভবনের নিচতলার শোরুমগুলোর কাচ ভেঙে চুরমার করে এবং কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দোকান থেকে মালামাল লুটপাট করা হয়।

উত্তরা স্কয়ার বিল্ডিংয়ে হামলার ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপণ্ডপুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার আলী জানান, একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পুরো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি আরও জানান, পরে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে একজনকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে এবং তার লাশ লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই গুজবকে কেন্দ্র করে অনেক লোকজন জড়ো হয়ে মার্কেটে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র লুটপাটের চেষ্টা করেছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।

অন্যদিকে উত্তরা অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আবু বক্কর বলেন, তাদের সংগঠন সব সময় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উত্তরা এলাকাকে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে কাজ করে আসছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটিতে একজন রিকশাচালককে মারধর করার একটি ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে। ভিডিওটি দেখার পর অনেক চালক আবেগপ্রবণ হয়ে সেখানে জড়ো হন। এ থেকেই বোঝা যায় এসব রিকশাচালক আগে থেকেই সংঘবদ্ধ। একজন রিকশা চালক বলেন, আমাদের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে, ৫ মিনিটের মধ্যে আমরা ঢাকা শহরকে অচল করে দেয়ার ক্ষমতা রাখি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ