• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

রমজানে মশার যন্ত্রণায় ঢাকাবাসী

sagar crime reporter / ১২৭ জন দেখেছে
আপডেট : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইফতার-সেহরির সময় থেকে শুরু করে তারাবির নামাজ পর্যন্ত ঘরের ভেতর-বাইরে মশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছে

রমজানে মশার যন্ত্রণায় ঢাকাবাসী

 

shaplanews.com

 আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

পবিত্র রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের সময়। কিন্তু এবারের রমজানে রাজধানী ঢাকার বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে ভয়াবহ দুর্ভোগ মশার উৎপাত। ইফতার ও সেহরির সময় থেকে শুরু করে তারাবির নামাজ পর্যন্ত, ঘরের ভেতর-বাইরে সর্বত্র মশার ঝাঁক মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। রোজাদারদের অনেকেই বলছেন, দিনভর রোজা রাখার ক্লান্তির সঙ্গে মশার কামড়ের যন্ত্রণা যোগ হয়ে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলেই বাসা-বাড়ি, মসজিদ, বাজার, এমনকি হাসপাতাল প্রাঙ্গণেও মশার ঝাঁক নেমে আসছে। সেহরির আগে রাতের শেষভাগে ও ইফতারের সময় মশার আক্রমণ সবচেয়ে তীব্র বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। এতে শুধু স্বস্তি ও ইবাদতে ব্যাঘাতই ঘটছে না, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের আশঙ্কাও বাড়ছে।

রমজানে পরিবারের সবাই মিলে ইফতার করার একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, ইফতার টেবিলে খাবারের চেয়ে মশা তাড়ানোর প্রচেষ্টাই যেন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, সারলিয়া, শনির আখড়া, শ্যামপুর, মানিকনগর, মুগদা, বাসাবো, গোড়ান, নন্দীপাড়া, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা এলাকার বাসিন্দারা জানান, সূর্যাস্তের আগে-পরে মশার আক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

মসজিদের মুসল্লিরা বলেন, তারাবির নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে মশার কারণে। মশার উপদ্রব এতটাই বেশি যে নামাজের সময় বারবার হাত নেড়ে মশা তাড়াতে হচ্ছে। রমজানে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু মশার কারণে অনেকেই নামাজ শেষে দ্রুত বের হয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সংস্থাগুলোর দাবি, নিয়মিত ফগিং, লার্ভিসাইড ছিটানো এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে নগরবাসীরা বলছেন, ফগিং কার্যক্রম অনিয়মিত এবং কার্যকর নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনের বেলায় ফগিং করা হয়, যখন মশার সক্রিয়তা তুলনামূলক কম থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার বিস্তারের পেছনে প্রধান কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন, পানিবদ্ধতা ও অপরিষ্কার নর্দমা। বৃষ্টির পানি জমে থাকা, নির্মাণাধীন ভবনের খোলা জায়গা এবং প্লাস্টিক বর্জ্য সবই মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। মশার উপদ্রব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গু রাজধানীতে বড় আকার ধারণ করেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর, কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বছরের পর বছর পরিষ্কার না হওয়া নালা, পানিবদ্ধ বেসমেন্ট ও পার্কিং এলাকা মিলিয়ে ঢাকা শহর কিউলেক্স মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কিউলেক্সের উত্থান এবং এডিসের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন দুটিই প্রমাণ করে যে ঢাকার মশা সমস্যা আর মৌসুমি নয় এটি একটি কাঠামোগত ও বৈজ্ঞানিক সঙ্কট। প্রশাসন তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না, আবার নাগরিক উদাসীনতাও সমানভাবে দায়ী।যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আফরোজা আক্তার বলেন, ইফতারের সময় টেবিলে বসা যায় না। কয়েল, অ্যারোসল, ইলেকট্রিক ব্যাট সব ব্যবহার করেও রেহাই মিলছে না। সেহরির সময় ঘুম ভাঙার পর মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়তে হয়। রাতে কয়েল জ্বালিয়ে রাখলেও ভোরে দেখি ঘরে মশার ঝাঁক।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (ডিএনসিসি) শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে উন্নয়ন কর্মকা-ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। যেখানে অব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে মশার সমস্যা বিদ্যমান। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন একা দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশক নিধন এবং ঢাকাকে একটি পরিবেশবান্ধব সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা এবং এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা জমাদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। সেবা প্রদানের মাধ্যমে নগরবাসীর আস্থা অর্জনই হবে আমার প্রধান কাজ। পরিচ্ছন্ন ঢাকা, মশক নিধনসহ বাসযোগ্য নগরী গড়তে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতনতা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ