আন্তর্জাতিক
বিজেপিকে ঠেকাতে কংগ্রেসের নতুন কৌশল
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫,
বিজেপিকে ঠেকাতে কংগ্রেসের নতুন কৌশল
সংগৃহীত ছবি
ভারতের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক বৈঠক। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) কলকাতায় দলের প্রদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে বসেছিলেন এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেণুগোপাল।
সেখানেই তিনি জানিয়ে দেন, কংগ্রেসের প্রধান লক্ষ্য এখন দলকে শক্তিশালী করা। জোট নিয়ে আলোচনা পরে হবে। ভোটের সময় প্রয়োজন মনে হলে সিপিএম বা অন্য কোনও দলের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু আপাতত কংগ্রেস চাইছে, নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে মাঠে নামতে।
বেণুগোপাল বলেন, বিহারে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ বড় সাড়া পেয়েছে। বাংলাতেও যদি একইভাবে কর্মসূচি নেওয়া যায়, তবে তা কংগ্রেসকে নতুন প্রাণ দেবে। এ ধরনের বড় সভা বা সম্মেলনে রাহুল গান্ধী নিজে যোগ দিতে চান। তার উপস্থিতি শুধু কর্মীদের মনোবল বাড়াবে না, ভোটের আগে কংগ্রেসকে অন্যভাবে তুলে ধরবে।
বিগত কয়েক বছরে বাংলায় কংগ্রেস কার্যত প্রান্তিক শক্তি হয়ে আছে। একসময় তৃণমূল ও বামের মধ্যে সমঝোতার রাজনীতি কংগ্রেসকে ছায়ায় ঠেলে দিয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষও দলটিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। তবে এবার পরিস্থিতি পাল্টাতে চাইছে কংগ্রেস। তাদের মতে, বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে মোকাবিলা করতে হলে প্রথমে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে হবে।
বৈঠকে বেণুগোপাল নির্দেশ দিয়েছেন, দ্রুত ব্লক কমিটি গঠন করতে হবে। এজন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীরকে। তিনি প্রান্তিক স্তরে গিয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি বড় জনসভা করার পরিকল্পনা চলছে, যেখানে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
রাজনৈতিক মহল বলছে, বাংলায় রাহুল গান্ধীর সফর নিছক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং এর মাধ্যমে কংগ্রেস বার্তা দিতে চাইছে— তারা এখনও প্রাসঙ্গিক। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুধু তৃণমূলের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। কংগ্রেসও লড়াই করবে, এবং সেই লড়াইয়ের ভিত্তি হবে সাংগঠনিক শক্তি।
সব মিলিয়ে, দেশটির বাংলাভাষাভাষী রাজ্যের রাজনীতিতে কংগ্রেসের নতুন কৌশল এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাহুল গান্ধীর সফর যে বিজেপি-বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে, সে ব্যাপারে সংশয় নেই।
ভারত