জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ
প্রকাশ : রোববার ৩১ আগস্ট ২০২৫,
রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন নেভাতে ব্যস্ত ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা
রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের সাথে হামলাকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান নিক্ষেপ করে। এতে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশের সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যায় বিজয়নগর থেকে গণ অধিকার পরিষদ ও পল্টন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে জাপা কার্যালয়ের সামনে আসেন। এ সময় উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রায় ১৫ মিনিটের বেশি সময় উত্তেজনা চলার পর গণ অধিকার পরিষদের নেতারা তাদের কর্মীদের সরিয়ে নেন। এর কয়েক মিনিট পরেই কয়েকজন লোক পেছন দিয়ে এসে জাপা কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরে সামনের অংশে ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। কার্যালয় থেকে চেয়ার-টেবিল বের করে বাইরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। তখন তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ শুরু করে। এরপরই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পরে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখে।
এর আগে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিকেলে বিজয়নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন দলের নেতাকর্মীরা। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি পল্টন, প্রেস ক্লাব, মৎস্যভবন, কাকরাইল হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড় দিয়ে বিজয়নগরের দিকে আসেন।
শুক্রবার রাতে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতাকর্মীদের সাথে গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে দুইপক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বলপ্রয়োগ করে। গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে লাঠিচার্জে দলটির নেতা নুরুল হক নুর এবং রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহত হওয়ায় নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত ১১টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
গণ অধিকার পরিষদসহ কিছু রাজনৈতিক দলের দাবি, ফ্যাসিবাদী শাসনকে বৈধতা দেয়ার ক্ষেত্রে জাপা সহযোগীর ভূমিকায় ছিল। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের পাশাপাশি জাপারও কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।
রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর, সাইনবোর্ডে আগুন
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজশাহী জেলা ও মহানগর অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। অফিসের সামনে লাগানো সাইনবোর্ড খুলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গণ অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরসহ অন্য নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি রাজশাহী কলেজের সামনের সড়ক দিয়ে ঘুরে সাহেববাজার গণকপাড়া হয়ে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় গণকপাড়ায় থাকা জাতীয় পার্টির রাজশাহী জেলা ও মহানগর অফিসে হামলা করা হয়। অফিসের দরজা এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। এরপর সাইনবোর্ড খুলে রাস্তায় এনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
এর আগে মিছিলে অংশ নেন এনসিপির রাজশাহী মহানগর সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী মোবাশ্বের আলী, জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলাম সাজু, মহানগর যুগ্ম সমন্বয়কারী সারোয়ারুল হক রবিন, গণ অধিকার পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকির হোসেন প্রমুখ।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই জাতীয় পার্টির অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও সাইনবোর্ডে অগ্নিসংযোগ করা হয়। তবে কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।
খুলনায় জাপা কার্যালয়ে হামলা
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রধান ফটকের সামনের সাইন বোর্ড ভেঙে দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়স্থ খুলনা জেলা জাতীয় পার্টি ও মহানগর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশী তৎপরতার কারণে গণঅধিকার পরিষদ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে পারেনি। এ সময় পুলিশের সাথে গণঅধিকার পরিষদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। গণঅধিকার পরিষদের দাবি- পুলিশের লাঠিচার্জে তাদের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ফেরিঘাট মোড়ে লোয়ার যশোর রোডে টায়ার জ¦ালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার দিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা শিববাড়ী মোড়ে দলীয় প্রধান নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ করে। পরে শতাধিক লোক মিছিল করে এসে নগরীর ডাকবাংলো মোড়স্থ খুলনা জেলা জাতীয় পার্টি ও মহানগর কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সাইন বোর্ড ভাঙচুর করে।