জাতীয়
রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকার
জয়ের বিতর্কিত আদেশই চলছে বিটিআরসি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫,
জয়ের বিতর্কিত আদেশই চলছে বিটিআরসি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রশাসনিক নির্দেশনা এখনো বহাল রয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি)। এর ফলে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। আন্তর্জাতিক এসএমএস খাত থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে সরকার। গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের এক বছর পার হলেও রহস্যজনক কারণে জয়ের সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি বিটিআরসি।
সরকার পতনের কিছু দিন পর নীতিমালা অনুযায়ী খাতটি আন্তর্জাতিক গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) মাধ্যমে চালানোর উদ্যোগ নিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা কার্যকর হয়নি।
জানা যায়, ২০০৮ সালে আইজিডব্লিউ চালুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা আইজিডব্লিউর আওতার বাইরে রেখে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের (এমএনও) হাতে তুলে দেওয়া হয়। অথচ লাইসেন্সিং গাইডলাইনস ও আন্তর্জাতিক দূরপাল্লার টেলিযোগাযোগ সেবা নীতিমালা (আইএলডিটিএস) অনুসারে ইন্টারনেট ব্যতীত সব আন্তর্জাতিক সেবা আইজিডব্লিউর মাধ্যমে পরিচালনা করার কথা। অভিযোগ রয়েছে-মূলত বিদেশি মোবাইল কোম্পানিগুলোর চাপের কারণে বিটিআরসি তার নিজের প্রণীত গাইডলাইনস ও নীতিমালা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়।
পরে আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা চালুর নিয়মতান্ত্রিক গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। এতে বিটিআরসি আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবার ক্ষেত্রে অবিলম্বে আইএলডিটিএস নীতিমালা পরিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর বিটিআরসির অধীনে এমএনও, আইসিএক্স ও আইজিডব্লিউ প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়। তাতে সব পক্ষ টেকনিক্যাল বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। একটি খসড়া ট্যারিফও নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক এসএমএস চালুর প্রস্তাবিত ট্যারিফ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে মন্ত্রণালয় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আইসিটি উপদেষ্টার অনুমোদন নিতে বলে।
বিটিআরসি ২০২০ সালের অক্টোবরে আইসিটি উপদেষ্টার অনুমোদন চাইলে তিনি প্রস্তাবটি নাকচ করেন। অচিরেই নতুন নীতিমালা আসবে-এই অজুহাত দেখিয়ে আন্তর্জাতিক এসএমএস সেবা মোবাইল অপারেটরদের হাতে রেখে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তার সেই মতামতই এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক আদেশ হিসাবে চালিয়ে আসছে বিটিআরসি।