সারাদেশ
তিন বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার, কারাগারে সৎমা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫,
তিন বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার, কারাগারে সৎমা
আরও পড়ুন
ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে গোলাগুলি, সতর্ক বিজিবি
পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল নানী-নাতির
এনসিপি নেতা নিজামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
৩৩ বছর ইমামতির পর ফুল সজ্জিত গাড়িতে ইমামের রাজকীয় বিদায়
বিরামহীনভাবে চলছে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের পাথর লুট
ফলো করুন
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কুলসুম সুমাইয়া (৩) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরের দিকে এ ঘটনায় পুলিশ শিশুটির সৎমা শিউলি আক্তারকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এর আগে, রোববার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের নুরবক্স চাপরাশি বাড়ি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃত সুমাইয়া একই বাড়ির সৌদি প্রবাসী ফয়সাল আহমদের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া তার সৎমা শিউলি আক্তারের (২৫) সঙ্গে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে শিউলি তার সৎ মেয়ে শিশু সুমাইয়াকে মারধর করে। এরপর তাকে গোসল করিয়ে ঘুম পাড়ায়।
এরপর বিকালের দিকে ঘুমানো অবস্থায় শিশুটিকে মৃত দেখতে পায় তার সৎমা শিউলি আক্তার। পরে বিষয়টি তিনি তার প্রবাসী স্বামীকে জানান। পরবর্তীতে বাসায় ডাক্তার নিয়ে আসেন। তখন ডাক্তার জানায়, শিশুটি অনেক আগেই মারা গেছে।
আরও পড়ুন
‘মুই এখন তিনটা ছাওয়াক নিয়া ক্যামন করি চলিম’
প্রবাসী স্বামীর পরামর্শে শিউলি আক্তার একই দিন রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে সুমাইয়ার লাশ দাফনের জন্য স্বামীর গ্রামের বাড়ির উপজেলার খানপুর গ্রামে নিয়ে যান। পরদিন সকালে শিশুটির লাশ গোসল করানোর সময় তার কানে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানায়।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, সুমাইয়াকে শ্বাসরোধ করে তার সৎমা মেরে ফেলেছে বলে ৯৯৯-এ ফোন করে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মৃত শিশুর গলায় ও ডান কানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় সৎমা শিউলি আক্তারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
ওসি আরও বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রোববার রাতে নিহত শিশুর দাদি মারজাহান বেগম বাদী হয়ে সৎমা আসামি করে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।