• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

ভারত ১৫০ বর্গফুটের ঘরে ৮০ ভোটার, তাহলে কি ইসির বিরুদ্ধে রাহুলের কারচুপির অভিযোগ সত্য প্রতিনিধিনয়াদিল্লি

sagar crime reporter / ৪৩১ জন দেখেছে
আপডেট : শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৫

ভারত
১৫০ বর্গফুটের ঘরে ৮০ ভোটার, তাহলে কি ইসির বিরুদ্ধে রাহুলের কারচুপির অভিযোগ সত্য
প্রতিনিধিনয়াদিল্লি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৫,
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীফাইল ছবি: এএফপি
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ যে নিছকই মনগড়া নয়, ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে সেটি উঠে এসেছে। লোকসভার বিরোধী নেতার অভিযোগ সরেজমিন যাচাই করতে গিয়ে ওই গণমাধ্যমের সাংবাদিক দেখেন, কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর মহাদেবপুরা বিধানসভা আসনের একটি ঠিকানায় ১৫০ বর্গফুটের এক ঘরে সত্যি সত্যিই ৮০ জন ভোটারের নাম নথিভুক্ত করা রয়েছে।

গত বৃহস্পতি নয়াদিল্লিতে প্রথমে কংগ্রেস সদর দপ্তর, তারপর নিজের বাসভবনে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের নৈশভোজের আসর এবং গতকাল শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে ‘ভোটচুরি’র প্রমাণ দাখিল করেন রাহুল। অভিযোগ করেন, বিজেপিকে জেতাতে ইসির কর্তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোট চুরি করে চলেছেন।

অবশ্য ইসি রাহুলের সেই সব অভিযোগ ‘পুরোনো বোতলে নতুন মদ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা রাহুলকে বলেছে, শপথ গ্রহণ করে হলফনামা দিয়ে ইসির কাছে অভিযোগ জানাতে, না হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে। রাহুলের প্রত্যুত্তর, তিনি সংসদে সংবিধান ছুঁয়ে শপথ নিয়েছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রমাণ দাখিল করেছেন। ইসির উচিত তা তদন্ত করা।

সেই তদন্ত ইসি নয়, করল ইন্ডিয়া টুডে টিভি। গতকাল শুক্রবার রাতে ওই নিউজ চ্যানেলের প্রতিবেদনে দেখানো হয়, বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা আসনের অন্তর্গত মহাদেবপুরা বিধানসভা আসনের ৪৭০ নম্বর বুথের মুন্নি রেড্ডি গার্ডেনের ৩৫ নম্বর ঠিকানায় সত্যি সত্যিই ৮০ জন ভোটারের নাম নথিবদ্ধ করা রয়েছে। কিন্তু ভোটারদের কেউই সেখানে থাকেন না।

মহাদেবপুরা বিধানসভা আসনে নথিভুক্ত ভোটারদের মধ্যে ১ লাখ ২৫০ জন ভুয়া বলে দাবি করেছিলেন রাহুল। বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা আসনের সাত বিধানসভা এলাকার মধ্যে ছয়টিতে হারলেও বিজেপি মহাদেবপুরায় এক লাখের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিল। ফলে লোকসভা আসনটিতে তারা ৩২ হাজার ভোটে জিতে যায়।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, বিজেপিকে জেতাতে ইসি এভাবেই বেছে বেছে ভোটচুরি করে চলেছে।

ইন্ডিয়া টুডে টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে দেখানো হয়, ওই ১৫০ বর্গফুট ঠিকানার বর্তমান বাসিন্দা পশ্চিমবঙ্গের এক পরিযায়ী শ্রমিক। নাম দীপংকর। তিনি খাবার ডেলিভারির কাজ করেন। এক মাস আগে ওই ঠিকানায় থাকতে এসেছেন। দীপংকর বলেন, তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। ওই ঠিকানায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের কাউকে তিনি চেনেনও না।

ওই ঠিকানার মালিকের সঙ্গেও কথা বলেছে ইন্ডিয়া টুডে টেলিভিশন। তাঁর নাম জয়রাম রেড্ডি। তিনি প্রথমে নিজেকে বিজেপির কর্মী হিসেবে দাবি করেছিলেন। পরে বলেন, তিনি বিজেপির সমর্থক ও ভোটার, দলীয় কর্মী নন।

জয়রাম স্বীকার করেন, বহু ভাড়াটে ওখানে থাকেন। ভোটার কার্ডে নাম তোলেন। তারপর অন্যত্র চলে যান। তবে ভোটের সময় অনেকেই চলে আসেন। ভোটও দেন। জয়রাম স্বীকার করেন, এসব ঘটনার কথা তিনি এত দিন নির্বাচন আধিকারিকদের জানাননি। তবে এবার জানাবেন।

জয়রাম রেড্ডি এ কথাও স্বীকার করেন, রাহুলের অভিযোগ অসত্য নয়। ভোটার তালিকায় ওই ঠিকানায় ৮০ জনের নাম থাকার অভিযোগটি সত্যি। তাঁর কথায়, তাঁদের অনেকেই ওডিশা, মধ্যপ্রদেশ, বিহার বা অন্যত্র চলে গেছেন। কেউ কেউ এখনো ভোটের সময় আসেন। ভোট দেন। তারপর চলেও যান।

মহাদেবপুরার ওই এলাকা আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) করিডর হিসেবে পরিচিত। সেখানকার বুথ পর্যায়ের অফিসার বা ‘বিএলও’ মুনিরত্নাও কংগ্রেস নেতার ওই অভিযোগ সঠিক বলে মেনে নিয়েছেন।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদককে মুনিরত্না বলেন, বহু কর্মী ওখানে কাজ খুঁজতে আসেন। এ ধরনের ছোট ছোট ঘরে ভাড়া থাকেন। ভাড়ার রসিদ দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলেন। ভোটার কার্ড পান। তাঁদের অনেকেই পরে অন্যত্র চলে যান। কেউ কেউ থাকেন। তাঁরা প্রাইভেট নিরাপত্তা রক্ষী অথবা ঘর–গৃহস্থালির কাজ করেন।

প্রতিবেদককে মুনিরত্না বলেন, ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ইসিতে পাঠানো হলেও পদ্ধতিগত কারণে এখনো বাদ যায়নি। অনেকে নাম বাদ দিতে চান না। নির্বাচনের সময় এসে ভোট দিয়ে যান।

রাহুলের অভিযোগ ছিল, মহাদেবপুরার মোট সাড়ে ছয় লাখ ভোটারের মধ্যে এক লাখই ভুয়া। এসব ভুয়া ভোট বিজেপির পক্ষে গেছে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এভাবে ভোট চুরি করে দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে তুলেছে।

রাহুল বলেছিলেন, মহাদেবপুরা শুধু একটা ‘টেস্ট কেস’ বা নমুনামাত্র। ইসি প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে এমন বহু কারচুপি প্রমাণিত হবে।

কিন্তু ইসি সহযোগিতায় প্রস্তুত নয়। গত শুক্রবার রাহুল তাই রাজ্যের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে বলেছেন, অভিযোগ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিতে। রাহুল প্রকাশ্যেই বলেছেন, দোষীদের কেউ পার পাবেন না। অবসরে গেলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ