• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

রাজধানীতেই হোক আনন্দময় ঈদ ভ্রমণ

sagar crime reporter / ১২ জন দেখেছে
আপডেট : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

রাজধানীতেই হোক আনন্দময় ঈদ ভ্রমণ

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন না। সময়, ব্যস্ততা কিংবা খরচের কারণে রাজধানীতেই কাটাতে হয় ছুটির দিনগুলো।

তবে ঢাকাতেই রয়েছে এমন অনেক দর্শনীয় স্থান, যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বয়ে পরিবার নিয়ে কাটানো যায় দারুণ কিছু সময়। শিশুদের জন্য যেমন রয়েছে আনন্দের জায়গা, তেমনি বড়দের জন্যও রয়েছে ঐতিহ্য ও ইতিহাস জানার সুযোগ।
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরে আসার জন্য ঢাকার কয়েকটি জনপ্রিয় স্থান নিয়ে আজকের এই বিশেষ আয়োজন।

হাতিরঝিল-রাতের সৌন্দর্যে মুগ্ধতার নাম

রাজধানীর অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিল এখন ঢাকাবাসীর প্রিয় অবকাশযাপনের স্থান।

লেকের ওপর দৃষ্টিনন্দন সেতু, ঝলমলে আলোকসজ্জা, ওয়াটার ট্যাক্সি ও খোলা পরিবেশ হাতিরঝিলকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।ঈদের রাতে পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন হাজারো মানুষ।

লেকের পাশে বসে আড্ডা, ফুচকা-চটপটি খাওয়া কিংবা নৌভ্রমণ, সব মিলিয়ে জমে ওঠে উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশুদের জন্যও এটি বেশ আনন্দের জায়গা।ঘোরার উপযুক্ত সময় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত। এখানে প্রবেশে কোনো টিকিট লাগে না। তবে নৌকা ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর-ইতিহাস ও প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয়

রাজধানীর বিজয় সরণিতে অবস্থিত বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর বর্তমানে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই জাদুঘরে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, সেনাবাহিনীর ইতিহাস, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বিশাল সংগ্রহ।

শিশু-কিশোরদের জন্য এটি শিক্ষামূলক একটি ভ্রমণ হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে ও বাস্তব সামরিক সরঞ্জাম দেখতে ঈদের ছুটিতে এখানে ভিড় বাড়ে ব্যাপকভাবে।

বাংলাদেশিদের জন্য প্রবেশমূল্য ১৫০ টাকা। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঈদের দিনগুলোতে জাদুঘর খোলা থাকে। অন্য সময়ে বুধবার ও সরকারি ছুটি ছাড়া শনিবার থেকে মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার খোলা থাকে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

লালবাগ কেল্লা-মুঘল ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে লালবাগ কেল্লা অন্যতম। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র ও তৎকালীন বাংলার সুবাদার মুহাম্মদ আজম শাহ ১৬৭৮ সালে লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খাঁ বাংলার সুবাদার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলেও তাঁর কন্যা পরীবিবির মৃত্যুর পর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই কেল্লাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। মুঘল আমলে নির্মিত এই দুর্গটি এখনও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।

দুর্গের ভেতরে রয়েছে পরীবিবির সমাধি, হাম্মামখানা, শাহী মসজিদ এবং সুবেদারদের দরবার হল। বর্তমানে দরবার হলটি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখানে মুঘল আমলের অস্ত্র, পোশাক ও তৈলচিত্র প্রদর্শিত হয়।

এছাড়াও কেল্লার আঙিনায় রয়েছে বিশাল বাগান, ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও জলাশয়।

ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে এলে একদিকে যেমন ইতিহাস জানা যায়, অন্যদিকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদও নেওয়া যায়।

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ টাকা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ২০০ টাকা এবং সার্ক বহির্ভূত বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঈদের দিনগুলোতে কেল্লা খোলা থাকে। অন্য সময়ে রবিবার পূর্ণ দিবস এবং সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে। বন্ধের দিন ছাড়া সাধারণত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা-শিশুদের প্রিয় গন্তব্য

মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা ঈদের ছুটিতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়া স্থানগুলোর একটি। বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, কুমির, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী দেখতে শিশুদের উৎসাহ থাকে চোখে পড়ার মতো।

পরিবার নিয়ে সারাদিন কাটানোর জন্য এটি উপযুক্ত জায়গা। তবে ভিড় এড়াতে সকালেই প্রবেশ করাই ভালো বলে মনে করেন দর্শনার্থীরা।

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। তিন থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ২০ টাকা। প্রাণী জাদুঘরে প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ১০ টাকা। শিশু পার্কের বিভিন্ন রাইডের জন্য আলাদা টিকিট রয়েছে।

ঈদের দিনগুলোতে চিড়িয়াখানা খোলা থাকে। অন্য সময়ে সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতি রবিবার বন্ধ থাকে। গ্রীষ্মকালে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং শীতকালে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-ইতিহাস ও সংস্কৃতির ভাণ্ডার

রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘর দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম বড় সংগ্রহশালা। এখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, প্রত্নতত্ত্ব, লোকজ সংস্কৃতি, প্রাচীন মুদ্রা ও শিল্পকলার বিশাল সংগ্রহ।

শিশু-কিশোরদের জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্যও এটি একটি চমৎকার স্থান।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রবেশমূল্য ৪০ টাকা। তিন থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ২০ টাকা। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঈদের দিন জাতীয় জাদুঘর বন্ধ থাকে। তবে ঈদের পরের দুই দিন সাধারণত দর্শনার্থীদের জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত রাখা হয়। অন্য সময়ে বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

আহসান মঞ্জিল-নবাবদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাসাদ

বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে গোলাপি রঙের দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা আহসান মঞ্জিল পুরান ঢাকার অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন। একসময় এটি ছিল ঢাকার নবাব পরিবারের আবাসস্থল।

বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত। ঐতিহাসিক এই প্রাসাদের স্থাপত্যশৈলী দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রয়েছে নবাবদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র, আয়না, সিন্দুক, অলংকৃত রুপার সামগ্রী, তৈলচিত্র, ফুলদানি, রাজকীয় অতিথিদের কক্ষ ও নাচঘরসহ নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন।

সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ৪০ টাকা। ১২ বছরের নিচের শিশুদের জন্য ২০ টাকা। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ৩০০ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ফ্রি। আগে থেকে আবেদন করলে শিক্ষার্থীরাও বিনামূল্যে জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পায়।

ঈদুল আজহার দিন আহসান মঞ্জিল বন্ধ থাকে। তবে ঈদের পরবর্তী দিনগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।

শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর বন্ধ থাকে।

ঈদে খোলা থাকবে বিনোদন পার্কও

ঈদ উপলক্ষে সাধারণত ঢাকা ও আশপাশের বেশিরভাগ বিনোদন পার্ক খোলা রাখা হয়। বাড়তি দর্শনার্থী সামলাতে অনেক পার্ক বিশেষ আয়োজন, বাড়তি সময়সূচি ও ঈদ অফার চালু করে।

বিশেষ করে নন্দন পার্ক, ফ্যান্টাসি কিংডম, ড্রিম হলিডে পার্ক ও ফানল্যান্ড পার্ক ঈদের সময় দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে রাত পর্যন্ত কার্যক্রম চালায়।

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, শিশু পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যানসহ উন্মুক্ত বিনোদন এলাকাগুলোতেও ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়।

ঈদ ভ্রমণে কিছু সতর্কতা

ঈদের ছুটিতে এসব স্থানে দর্শনার্থীর চাপ অনেক বেড়ে যায়। তাই পরিবার নিয়ে বের হওয়ার সময় কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ঈদের দিন বা ঈদের পরদিন আংশিক বন্ধ থাকতে পারে। কোনো স্থানে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো।

এছাড়াও শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন, অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলুন, সঙ্গে পানীয় পানি রাখুন, নির্ধারিত পার্কিং ব্যবহার করুন এবং ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলবেন না। নিজের টাকা-পয়সা ও ব্যাগ সতর্কতার সঙ্গে রাখুন এবং অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

রাজধানীর ব্যস্ত জীবনের মাঝেও ঈদের ছুটিতে পরিবারকে সময় দেওয়ার অন্যতম সুযোগ হতে পারে এই ছোট ছোট ভ্রমণ। ইতিহাস, প্রকৃতি আর বিনোদনের সমন্বয়ে ঢাকার এসব দর্শনীয় স্থান ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ