Published : 23 Apr 2026,
সেচ কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে সরকার রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
দুটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে ফিরলে আগামী সাত দিনের মধ্যে বর্তমান লোডশেডিং কমে আসতে পারে বলেও আশা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বুধবার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট, যা সামাল দিতে লোডশেড করতে হয়েছে।
ঢাকা শহরে (ডেসকো ও ডিপিডিসি এলাকা) সম্মিলিত চাহিদা প্রায় ৩,৫০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেড করার কথা সংসদে বলেন প্রতিমন্ত্রী।
কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “এখন ফসল তোলার মৌসুম। এ সময়ে কোনোভাবেই কৃষক যেন সেচের জন্য বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকটে না পড়েন, সে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই দিয়েছেন।
“সরকার সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে কিছু কিছু এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।”
শহরের মানুষ ‘আরামে’ থাকবে, আর গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক ‘কষ্টে থাকবে’–এটা কোনভাবেই কাম্য নয় বলে ভাষ্য তার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগের দিন (বুধবার) জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে বিশদ আলোচনা হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল আলোচনার ইতিবাচক ধারা। ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার বার্তাই ছিল ওই আলোচনার মূল অর্জন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।”
এ উদ্যোগকে জাতির জন্য ‘নতুন পথের দিশা’ হিসেবে দেখাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী।
এ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ‘আন্তরিকতা’ থাকার কথা তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদও দেন।
তিনি বলেন, “বিগত সময়ের বিভিন্ন ঘটনার কারণে সরকারের বক্তব্যের প্রতি জনগণের আস্থা কমে থাকতে পারে। ফলে নতুন সরকারের বক্তব্যে মানুষের আস্থা ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে। তবে সেই আস্থা ফেরাতে সরকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়।”
বিদ্যুৎ সংকটের জন্য আগের সরকারকে দায়ী করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সমস্যাটি একদিনে তৈরি হয়নি; এটি পুঞ্জীভূত সমস্যা। এই উত্তপ্ত গ্রীষ্মে আমাদের অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হচ্ছে।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার কাগজে-কলমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি দেখালেও বাস্তবতার সঙ্গে তার বড় ‘গরমিল’ রয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
গ্যাস সংকটের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু দেশের সব গ্যাসক্ষেত্র মিলিয়ে বর্তমানে উৎপাদন করা যাচ্ছে ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর সঙ্গে প্রতিদিন ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। তাতেও প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
অর্থ বা সক্ষমতা থাকলেও ‘অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার’ কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সরকার গ্যাস আমদানির ‘অবকাঠামো’ বাড়াতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে এ খাতের অবকাঠামো সম্প্রসারণ রয়েছে এবং এ বিষয়ে দেশবাসী দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবে।”