• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

ইরানে সরকারবিরোধী সহিংসতায় সংস্কারপন্থি চার নেতা গ্রেপ্তার

sagar crime reporter / ১০৪ জন দেখেছে
আপডেট : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী সহিংসতায় সংস্কারপন্থি চার নেতা গ্রেপ্তার

৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের ভ্যালিয়াসর স্কয়ারের একটি ভবনে প্রদর্শিত বিশাল যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে একজন ইরানি মোটরসাইকেলে চড়ে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি

জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী সহিংসতার ঘটনায় ‘রাজনৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্টের চেষ্টা’ এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বার্থে কাজ করার’ অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনই প্রভাবশালী সংস্কারপন্থি রাজনীতিক বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। তারা হলেন—ইরানের রিফর্ম ফ্রন্টের প্রধান আজার মনসুরি, সাবেক কূটনীতিক মোহসেন আমিনজাদেহ এবং সাবেক সংসদ সদস্য এব্রাহিম আসগারজাদেহ। চতুর্থ ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। খবর আল জাজিরার।

ইরানের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে, সামরিক হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় তারা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে ‘ব্যাপক কর্মকাণ্ড সংগঠিত ও নেতৃত্ব’ দিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মিজান জানায়, অভিযুক্তরা রাস্তায় সহিংসতায় জড়িতদের কর্মকাণ্ডকে ‘বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা’ করেছেন।

রিফর্ম ফ্রন্ট এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, বিচারিক আদেশের ভিত্তিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা সদস্যরা মনসুরিকে তার বাসার দরজা থেকেই আটক করে। সংগঠনটি আরও জানায়, তাদের উপ-চেয়ারম্যান মোহসেন আরমিন ও সেক্রেটারি বদরাল সাদাত মোফিদিসহ আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে তলব করা হয়েছে।

জানুয়ারিতে রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংকটবিরোধী বিক্ষোভ দ্রুত দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিকে দায়ী করে। সরকার দাবি করেছে, ওই সহিংসতায় ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি—নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এর পেছনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভূমিকা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, তারা ৬ হাজার ৮৫৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে এবং আরও ১১ হাজারের বেশি ঘটনার তদন্ত চলছে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আমিনজাদেহ সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির আমলে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, আর আসগারজাদেহ ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত।

জানুয়ারির দমন–পীড়নের ঘটনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন হামলার হুমকি দেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌবাহিনীর বহর মোতায়েনের নির্দেশ দেন। জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সম্ভাব্য ‘আঞ্চলিক যুদ্ধের’ সতর্কবার্তা দেন।

পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়। গত শুক্রবার ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং সংলাপ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে নতুন দফা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে পুরো অঞ্চল সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। তবে তিনি যোগ করেন, ইরান আঞ্চলিক যুদ্ধ চায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ