• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ

sagar crime reporter / ৯৭ জন দেখেছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

জাতীয়

বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬,

সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যায় ও একতরফাভাবে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) তিন কর্মকর্তাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলাটি করেন ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মামলার বাদী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মামলাটি দায়ের করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।

মামলায় ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পীকে। অপর আসামিরা হলেন— মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডোমেইন) মোস্তফা আল মাহমুদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ডোমেইন) আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-২) মো. শাহ আলম সিরাজ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ দুটি ওয়েবসাইট—www.uset.ac.bd এবং www.uset.edu.bd পরিচালনা করে আসছে। ওয়েবসাইটের এডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড কাউকে না দেওয়ার জন্য ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মামলার ২ নম্বর আসামির স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ডোমেইন সংক্রান্ত আপত্তির কথা জানিয়ে অভিযোগ শুনানির নামে ২৩ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়। নির্ধারিত তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২৩ হাজার টাকার পে-অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়া হয়। এ সময় বলা হয় যে, ডিমান্ড নোট অনুযায়ী ২৭ নভেম্বরের পর টাকা গ্রহণযোগ্য নয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ এবং ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয় (রিট নং-২১৮৯৪/২০২৫, তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫)।

এছাড়া গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে মামলার বাদী জয়ীতা সেন রিম্পীর রুমে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিটিসিএলের ভবনে আর কখনো দেখা গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। সে সময় হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো হয় এবং আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীকেও আবেদন না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনার পর ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরস্পর যোগসাজশে গত ১১ জানুয়ারি বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে এবং অপূরণীয় ক্ষতি হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ