• ঢাকা, বাংলাদেশ বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

সাইফুর রহমান বললেন, ‘এটা কি ধরনের প্রশ্ন করলেন’

sagar crime reporter / ১৬৪ জন দেখেছে
আপডেট : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

জাতীয়

খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিয়ে আসিফ নজরুল

সাইফুর রহমান বললেন, ‘এটা কি ধরনের প্রশ্ন করলেন’

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬,

খালেদা জিয়ার প্রথম সাক্ষাৎকার কথা স্বরণ করে মধুর স্মৃতি সামনে আনলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। সেখানে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের একটি স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, আমি খালেদা জিয়ার ভক্ত ছিলাম অনেক আগে থেকে। তিনি সাংবাদিক হিসেবে আমাকে পছন্দ করতেন। ১৯৮৮/৮৯ সালের কথা।বিএনপির অফিস ছিল তখন ধানমন্ডিতে। আমি উনার অফিসে বসে সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। লিখিত প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর তিনি মুখোমুখি প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেন সেদিন।

খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতা সামনে এতে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপিতে তখন এসব দেখাশোনা করতেন ফজলুর রহমান পটল ভাই। মহাসচিব ছিলেন ব্যারিষ্টার আবদুস সালাম তালুকদার ভাই। ম্যাডামের রুমে আমি ঢুকলাম ছাত্রদল সভাপতি আসাদুজ্জামান রিপনকে সঙ্গে নিয়ে। ম্যাডাম একটা বিরাট টেবিলের পেছনে বড়সড় চেয়ারে। সামনে টেবিল ঘিরে রাখা চেয়ারের একটাতে আমি, দূরের আরেকটাতে রিপন ভাই। লম্বালম্বি ঘরটার অন্যপ্রান্তে বেতের সোফাসেট। সেখানে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বসে আছেন।

‘ম্যাডামের লিখিত উত্তর বেশি আকর্ষণীয় মনে হলো না। সাক্ষাৎকার প্রাণবন্ত করতে আমি ম্যাডামকে চোখা একটা প্রশ্ন করলাম। তিনি একটু থমকে গেলেন। পেছন থেকে সাইফুর রহমান সাহেব বললেন, এটা কি ধরনের প্রশ্ন করলেন!’

ড. আসিফ নজরুল লেখেন, আমি তখন খুব রাগী তরুণ ছিলাম। জনাব রহমানকে বললাম, আপনি কথা বলছেন কেন! আমি তো আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছি না! তিনি রেগে কিছু বলতে যাচ্ছিলেন। ম্যাডাম তাকে থামালেন। তারপর হাসিমুখে আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন। এরপরও চার/পাঁচবার উনার একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছি।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, পিএইচডি শেষ করে দেশে ফেরার পর আমি কলামিষ্ট হলাম, টক-শো তে কথা বলা শুরু করলাম। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উনার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, অপবাদ, হয়রানি ও নির্যাতন শুরু হলো। বেগম খালেদা জিয়া এর মধ্যেও অটল থাকলেন অসীম আত্মত্যাগ, সাহসিকতা আর দেশপ্রেম নিয়ে!

আইন উপদেষ্টা লেখেন, আমি ম্যাডামকে প্রচণ্ড ভালোবাসতে আর শ্রদ্ধা করতে শুরু করলাম। শেখ হাসিনার ফ্যসিষ্ট আমলেও কোনোদিন আমি এই শ্রদ্ধা আর সমর্থন প্রকাশে বিরত ছিলাম না। মির্জা ফখরুল ভাই ছাড়া বিএনপির-ই কাউকে ম্যাডামের পক্ষে এতোটা বলতে শুনিনি সেই ১৫ বছরে।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আল্লাহ্ আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছেন। ম্যাডামকে শেষ বিদায় দেওয়ার দিনে প্রায় সারাটা সময় ছিলাম উনার আর উনার পরিবারের আশেপাশে। উনার সমাধিতে ফুলের ঢালি দিয়েছি। উনার জন্য প্রথম দোয়াতে শরিক হয়েছি। উনাকে জড়িয়ে রাখা ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। এই পতাকা সমুন্নত রাখার জন্য তিনি সারাজীবন বহু বঞ্চনা আর দুঃখ কষ্টের শিকার হয়েছেন। এই পতাকা উনার সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার সৌভাগ্যও হলো আমারি।’

সবশেষে ড. আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ