• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

সারাদেশ স্ত্রীকে অধ্যক্ষ বানিয়ে মাদ্রাসা চালান সরকারি কলেজ শিক্ষক

sagar crime reporter / ৩৩৯ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সারাদেশ

স্ত্রীকে অধ্যক্ষ বানিয়ে মাদ্রাসা চালান সরকারি কলেজ শিক্ষক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫,

স্ত্রীকে অধ্যক্ষ বানিয়ে মাদ্রাসা চালান সরকারি কলেজ শিক্ষক
প্রতীকী ছবি

অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্ত্রীকে, নিজেও নেন ক্লাস। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মুস্তফা কামাল তদারকি করেন পুরো মাদ্রাসার। অথচ সরকারি চাকরির নিয়মে বলা আছে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ নেই। সেই নিয়মকে থোড়াই কেয়ার করছেন মুস্তফা।

অভিযোগ আছে, সরকারি কলেজের শিক্ষক মুস্তফা কলেজের চেয়ে বেশি সময় দেন মাদ্রাসায়। সরকারি কলেজে ক্লাসও নেন না ঠিকমতো। উল্টো নাড়িনক্ষত্রের খোঁজ রাখেন তার মাদ্রাসার। নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিচালক হিসেবেও আছেন মাদ্রাসাটিতে।

সূত্র জানায়, মুস্তফা কামাল ‘আল জামি’আহ আস-সালাফিয়্যাহ’ নামের মাদ্রাসার পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন বহুদিন ধরে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মঘণ্টায়ও তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, যা সরাসরি সরকারি চাকরির বিধির লঙ্ঘন। মুস্তফা কামালের সঙ্গে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে।

একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আশীর্বাদেই দীর্ঘদিন তিনি মাদ্রাসা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন। আবু মামুনের সিন্ডিকেটের বিশেষ সদস্য হিসাবে পরিচিতি থাকায় কেউ মুস্তফা কামালের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু মামুন বলেন, আইন অনুসারে কোনো সরকারি স্কুলের শিক্ষক আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান চালাতে পারবে না। যদি তিনি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
সরকারি স্কুলের শিক্ষকের কোটি টাকার মাদ্রাসা
সরকারি স্কুলের শিক্ষকের কোটি টাকার মাদ্রাসা
জানা যায়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসাবে রয়েছেন মুস্তফা কামালের স্ত্রী। এতে মাদ্রাসায় তৈরি হয়েছে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ ও অস্বচ্ছতা। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন, এমনকি ভর্তি কার্যক্রমেও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এই দম্পতির হাতে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার প্রতিটি রুমে এসি লাগানোসহ বিলাসবহুল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। প্রশ্ন উঠেছে, একজন কলেজ শিক্ষকের পক্ষে কীভাবে এত ব্যয় বহন করা সম্ভব? এছাড়াও মাদ্রাসার সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘অলাভজনক প্রতিষ্ঠান’। কিন্তু বাস্তবে এটি রমরমা বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছাড়া কিছুই নয়।

মাদ্রাসায় প্রি-প্লে থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের কাছ থেকে মাসিক ফি বাবদ আয় হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এর বাইরে রয়েছে বই-খাতা-পেনসিল থেকে শুরু করে সব শিক্ষা উপকরণই মাদ্রাসা থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ। সেখান থেকেও প্রতিমাসে বাড়তি আয় করছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসাটির কোনো অনুমোদন নেই। এমনকি শিক্ষা বোর্ড বা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নিবন্ধনও নেই। আরও জানা যায়, মাদ্রাসা দাখিল স্তরের অনুমোদন না থাকলেও অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা অফিসার মাসুদুর রহমান বলেন, সরকারি চাকরির বিধি লঙ্ঘন করে একজন শিক্ষকের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চালানো আইনবিরোধী। খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মুস্তফা কামালের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানতে চাইলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ