শাপলানিউজ.কম
০৩ অক্টোবর ২০২৬,
কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়িবহর। আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে তিনটি বিশেষ লরিতে করে পারমাণবিক জ্বালানির চালানটি প্রকল্পের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
ইউরেনিয়াম পরিবহনের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহরের সঙ্গে রয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ, এপিবিএন, ডগ স্কোয়াড ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। চালানটি নির্বিঘ্নে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে পুরো যাত্রাপথে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
বহর চলাচলের সময় নিরাপত্তার কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য মহাসড়কের একটি লেন যানবাহনমুক্ত রাখা হবে। এর ফলে বহর অতিক্রমের সময় কিছু এলাকায় যানজট সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের দিকে রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে জ্বালানি খালাসের পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণ করেন।
চালানটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামবাহী বিমানটি ঢাকায় আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেই চালান স্থগিত হয়। পাকিস্তান হাইকমিশন পরে বিষয়টিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
রাশিয়া থেকে আসা এই জ্বালানি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত প্রয়োজন এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে আরও নয়টি ফ্লাইটে ২০০টির বেশি ইউরেনিয়াম ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি থাকবে।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। ২০২৩ সালে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। নতুন চালানগুলো প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আনা হচ্ছে।