• ঢাকা, বাংলাদেশ সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

আবাসিক এলাকায় পৌরসভার ময়লার ভাগাড়, বিপর্যস্ত জনজীবন

sagar crime reporter / ৫ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

আবাসিক এলাকায় পৌরসভার ময়লার ভাগাড়, বিপর্যস্ত জনজীবন

 

shaplanews.com
চাঁদপুরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পৌরসভার এই ভাগাড় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চাঁদপুর শহরের স্বর্ণখোলা এলাকায় পৌরসভার ময়লার ভাগাড় থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ, উড়তে থাকা বর্জ্য এবং ময়লা পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। এই ভাগাড়ের চারপাশে বর্তমানে বহু আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট গড়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ এই এলাকায় বসবাস ও চলাচল করলেও তাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়ে স্বর্ণখোলাবাসীর দাবি, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ময়লার ভাগাড় স্থানান্তর এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হোক।

এলাবাসীর দাবি, শহরের মাঝখানে একটি ময়লার ভাগাড়ের কারণে হাজারো মানুষ প্রতিদিন যে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, তার অবসান এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার মাঝখানে অবস্থিত এই ভাগাড় এখন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছে।

স্বর্ণখোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌরসভার বর্জ্য ফেলার স্থানটি অবস্থিত। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে করে এখানে বিপুল ময়লা আনা হয়। এসব বর্জ্য স্তূপ হয়ে পড়ে থাকে দিনের পর দিন। অনেক সময় ময়লার পরিমাণ কমাতে বা অপসারণের উদ্দেশ্যে বর্জ্যে আগুন দেওয়া হলে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী জানায়, ময়লার দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও স্বস্তি পাওয়া যায় না। বিশেষ করে গরমের সময় এবং বাতাসের প্রবাহ বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রনি বলেন, এখানে বসবাস করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ময়লা পোড়ানোর সময় চারদিকে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। চোখ জ্বালা করে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অনেক সময় ছোট শিশুদের নিয়ে ঘরে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা বহুদিন ধরে ভাগাড়টি অন্যত্র সরানোর দাবি জানিয়ে আসছি।

ব্যবসায়ী ইসহাক বলেন, অনেক ক্রেতা দোকানের সামনে এসে দুর্গন্ধের কারণে ফিরে যায়। ব্যবসা আগের তুলনায় কমে গেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ময়লার ভাগাড়ের পাশের বহুতল ভবনের মালিক আবু ফাহাদ হোসেন বলেন, এলাকার পরিবেশের কারণে নতুন ভাড়াটিয়া পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার সুযোগ পেলেই অন্যত্র চলে যাওয়ার কথা ভাবছে। একটি আবাসিক এলাকায় এমন পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না।

আবু ফাহাদ হোসেন আরও বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে। দ্রুত বিকল্প স্থানে ভাগাড় স্থানান্তর এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লার ভাগাড় পরিচালনা করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্জ্য পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের শরীরের জন্যও ক্ষতিকর। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সুজন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, শুধু ভাগাড় সরিয়ে নেওয়াই নয়, আধুনিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সংকট তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, স্বর্ণখোলার ময়লার ভাগাড়টি অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা বিকল্প জায়গা খুঁজছি। তবে এ ধরনের স্থাপনার জন্য উপযুক্ত স্থান পাওয়া সহজ নয়। তার পরও দ্রুত সমাধানের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ