• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
নোটিশ
সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় সংবাদকর্মী আবশ্যক। নিজেকে যোগ্য মনে করলে এখনই যোগাযোগ করুন Mob: 01778840333, Email: m.r.01778840333@gmail.com

বিশ্ব পর্যটন দিবস: ঢাকার কাছে, তবু কেন লোকসানে সালনার সরকারি রিসোর্ট

sagar crime reporter / ৭ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতীয়

বিশ্ব পর্যটন দিবস: ঢাকার কাছে, তবু কেন লোকসানে সালনার সরকারি রিসোর্ট

প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢাকার কাছের সালনা সরকারি রিসোর্টটি চার বছরে লোকসান গুনেছে এক কোটি ৫ লাখ টাকারও বেশি।

 

শাপলানিউজ.কম

27 Sep 2026,

রাজধানীর ব্যস্ততা ও যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মাত্র ৩৬ কিলোমিটার দূরে, সবুজ শালবনের কোল ঘেঁষে তৈরি হয়েছিল সালনা পর্যটন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট। কথা ছিল, ঢাকার মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়াবে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে চালুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত পর্যটক টানতে পারছে না রিসোর্টটি, উল্টো প্রতি বছরই ভারী হচ্ছে লোকসানের বোঝা।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে বনবিভাগের ৯ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা এই রিসোর্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা খরচে ২০২২ সালের জুনে উদ্বোধন করা হয় পর্যটন কেন্দ্রটি।

এখানে ছয়টি এসি কটেজ, সাতটি নন-এসি কটেজ, রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স হল, শালবন ও পিকনিক শেডসহ পর্যাপ্ত অবকাঠামো রয়েছে।

পর্যটকের পদচারণা, ভিড়, আড্ডাসহ নানা আয়োজনে জমজমাট থাকার কথা থাকলেও শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেল উল্টো চিত্র। রিসোর্টটি যেন জনশূন্য।

প্রতিষ্ঠার পর চার অর্থবছরে স্ট্যাবলিশমেন্ট কস্ট বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট আয় করেছে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৩০ টাকা। আর এই অর্থ আয় করতে পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার ৩২৫ টাকা। ফলে চার বছরে মোট লোকসানের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৯৫ টাকা।

এক নজরে

অর্থবছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়—

• ২০২২-২৩ অর্থবছর: আয় ২২ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৬ টাকা, ব্যয় ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭৪ টাকা (লোকসান ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৮ টাকা)।

• ২০২৩-২৪ অর্থবছর: আয় ৪৬ লাখ৭১ হাজার ৬৮৩ টাকা, ব্যয় ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৬ টাকা (লোকসান ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২১৩ টাকা)।

• ২০২৪-২৫ অর্থবছর: আয় ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬১ টাকা, ব্যয় ৮৬ লাখ ১১ হাজার ৩২৫ টাকা (লোকসান ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৪ টাকা)।

• ২০২৫-২৬ অর্থবছর: আয় ৪৮ লাখ ৩ হাজার ৯০ টাকা, ব্যয় ৭৪ লাখ ৭৬ হাজার ২৩০ টাকা (লোকসান ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ১৪০ টাকা)।

লোকসানের যত কারণ

বিশাল ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটি কেন লাভজনক হচ্ছে না- এমন প্রশ্নে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, প্রচারের অভাব ও বিনোদনমূলক সামগ্রীর ঘাটতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভ্রমণপিপাসুরা।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে সম্প্রতি বদলি হওয়া রিসোর্টের সাবেক ব্যবস্থাপক মো. সাবের উদ্দিন রনি বলেন, “স্থাপন তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। এখানে কিডস জোন, সুইমিং পুল, দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক ও নতুন ল্যান্ডস্কেপিং তৈরির পাশাপাশি নতুন ইভেন্ট যুক্ত করা গেলে আয় বাড়ত।”

রিসোর্টের বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন বলেন, “প্রকৃতির কোলে গড়ে উঠলেও পর্যটকদের আকর্ষণ করার অনেক সুযোগ এখনও বাকি। এখানে খেলার মাঠ, কিডস জোন বা সুইমিং পুল নেই। ২০ জন জনবলের জায়গায় মাত্র ১০ জন দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। তবে নতুন সুবিধা যুক্ত করে রিসোর্টটি নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে।”

আন্তর্জাতিক পর্যটন সংক্রান্ত নানা সংস্থায় যুক্ত ব্যক্তিরাও এতে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখছেন।

বাংলাদেশ পর্যটন সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বলেন, “আমরা কোনো পিকনিক, আনন্দ ভ্রমণ বা শিক্ষা সফরের ইভেন্ট বুকিং দিতে গেলে তারা জনবল সংকটের কথা বলে অপারগতা জানায়। এ ছাড়া এখানে সুইমিং পুল নেই, ভেতরে অবাধে মোটরসাইকেল ও বহিরাগতদের আনাগোনা থাকে। এসব কারণে দর্শনার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, “এটি সরকারি খরচে পর্যটন অবকাঠামো বানিয়ে তা অলস ফেলে রাখার একটি বাস্তব উদাহরণ। চার বছরে পরিচালন ব্যয় চালাতে পারল না। নতুন করে পরিকল্পনা করে লাভজনক না করতে পারলে এটা চালু রাখা কঠিন।”

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনুল ইসলাম বলেন, “গাজীপুরের এই রিসোর্টে নতুন সুবিধা যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে পাঁচ বছরের মূল হিসাব ধরলে প্রারম্ভিক বিনিয়োগের কারণে লোকসান বড় দেখায়। আমরা পর্যটক বাড়াতে কাজ করছি।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ