শাপলানিউজ.কম
২৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী চার দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একই সময়ে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নওগাঁসহ কয়েক জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
ঢাকায় গতকাল বুধবার দিনের বিভিন্ন ভাগে বৃষ্টি হয়েছে। চার দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
শুক্রবারও দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টির আভাস রয়েছে।
রোববারও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
টানা বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে দেশের কয়েকটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কেন্দ্রের বুধবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সোমেশ্বরী নদীর পানি নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তবে সুনামগঞ্জের ছাতক স্টেশনে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদনদীর পানি দুই দিনে আরও বাড়তে পারে এবং কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
কেন্দ্রের আশঙ্কা, এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে নদীটির পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বর্তমানে কমতির দিকে থাকলেও আগামী দুই দিনে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কিছু স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশের প্রধান নদীগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা এবং গঙ্গা-পদ্মার পানি বাড়ছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আজ লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার কয়েকটি স্থানে নদী দুটির পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে। তবে নেত্রকোনার চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।