শাপলানিউজ.কম
২২ জুলাই ২০২৬,
জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণ ক্রমেই বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। বুধবার সকালে ঢাকার বাতাসকে ‘মাঝারি’ মানের হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ৭৫। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান ২৬তম। একিউআইয়ের এই মাত্রাকে সাধারণভাবে ‘মাঝারি’ বা গ্রহণযোগ্য বায়ুমান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। শহরটির একিউআই স্কোর ১৮৭, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের বায়ু হিসেবে বিবেচিত। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের স্কোর ১৫৪।
এ ছাড়া সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ১৩৪ স্কোর নিয়ে তৃতীয়, ইসরায়েলের জেরুজালেম ১১৮ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং মিসরের রাজধানী কায়রো ১১৫ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। এসব শহরের বাতাসে দূষণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বাতাসকে ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তা ‘মাঝারি’ বা গ্রহণযোগ্য মানের বায়ু হিসেবে ধরা হয়। তবে এই পর্যায়েও বায়ুদূষণে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য বায়ু ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে তা সবার জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে চলে যায়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। বায়ুমানের এই পর্যায়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই দূষণের মাত্রা বেশি হলে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না থাকা এবং দীর্ঘ সময় খোলা পরিবেশে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।