১৪ মার্চ ২০২৬,
বসন্তে হঠাৎ ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনের সন্ধ্যায় রাজধানীবাসীর অনেকের ঈদের কেনাকাটার পরিকল্পনায় ভাটা পড়েছে বৃষ্টিতে। আবার অনেকের মনে ঘরে থাকার স্বস্তি জুগিয়েছে এই একপশলা বৃষ্টি। আবার এই বৃষ্টির মধ্যেও অনেককে বের হতে হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে, পানি জমা রাস্তায় নাকাল হয়ে দিনশেষের কাজ সারছেন তারা। তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। রামপুরা, আগারগাঁও, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ এ বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। কেউ ছাতা ব্যবহার করেন, কেউ দোকানপাটের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে প্রথম দিন রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শনিবার দ্বিতীয় দিনেও রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামীকাল রোববার তৃতীয় দিনে রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সোমবার চতুর্থ ও মঙ্গলবার পঞ্চম দিনে দেশের সব বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে; তবে পঞ্চম দিনে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫৭ শতাংশ। এ সময় ঢাকায় পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল, যা দমকা আকারে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টির সময় ঢাকার অদূরে সাভারেও ঝড়ের কবলে পড়ে একজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।