ঈদে ৬ দিন ট্রাক কাভার্ডভ্যান-লরি চলাচল বন্ধ
shaplanews.com
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬,
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচলে ছয় দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত সুগম করতে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, পোশাকসামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
এছাড়া ১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রা–সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহানগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কুড়িল থেকে আবদুল্লাহপুর অংশ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড অংশ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা মিরপুর রোডের আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার অংশ এবং ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতিবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ অংশ।
এছাড়া ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ অংশ, মোহাম্মদপুর বছিলা ক্রসিং থেকে বছিলা ব্রিজ, আবদুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়কও এই তালিকায় রয়েছে।
গণপরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই টার্মিনালের বাইরে প্রধান সড়কের ওপর বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত বাস কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে কোনো ধরনের বাস পার্কিং করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিআরটিসির বাস চলাচলের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে বাসগুলো সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে বের হয়ে সরাসরি নির্ধারিত জেলার উদ্দেশে যাত্রা করবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কল্যাণপুর ও গাবতলী ডিপোর বাসগুলো সরাসরি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিকে যাবে এবং ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপোর বাসগুলো যাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিকে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না এবং একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বাসের সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা বাসের ছাদে যাত্রী ওঠানোও নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি।
নিরাপদ ড্রাইভ নিশ্চিত করতে চালকদের জন্য বলা হয়েছে, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং কোনোভাবেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। বিশেষ করে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে বা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহন চালানো যাবে না এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি বাসে উচ্চ স্বরে গান বাজানো এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মালিকপক্ষ চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবেন না। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত বা কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী জরাজীর্ণ যানবাহন সড়কে নামানো যাবে না বলেও ডিএমপি জানিয়েছে।
যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে হবে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং ভ্রমণকালে নিজের মালামাল সাবধানে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাত্রার নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনালে উপস্থিত হতে হবে এবং রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে হবে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা কিংবা পণ্যবাহী মোটরযানে যাত্রী হওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ডিএমপির এই নির্দেশনাগুলো পালনে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক, চালক ও নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।








